ঢাকার কেরানীগঞ্জে সমাজসেবা অধিদপ্তরের ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকৃত অসহায় ও নিম্নআয়ের অনেক পরিবার এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হলেও প্রবাসী ও আর্থিকভাবে সচ্ছল পরিবারের সদস্যরা উপকারভোগীর তালিকায় স্থান পেয়েছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকজন প্রবাসীর পরিবারের সদস্য ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বিদেশে অবস্থানরত স্বামী বা সন্তানের মাধ্যমে নিয়মিত আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকেন। এছাড়া নিজস্ব বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কিংবা ভাড়া থেকে আয় রয়েছে এমন ব্যক্তিদের নামও উপকারভোগীর তালিকায় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে, দিনমজুর, শ্রমজীবী ও স্বামীহারা অনেক নারী আবেদন করেও কার্ড পাননি বলে জানিয়েছেন। এতে এলাকায় ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
সুবিধাবঞ্চিত কয়েকজন বাসিন্দা জানান, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক কষ্টের মধ্যে জীবনযাপন করছেন। সরকারি এই সহায়তা কর্মসূচি থেকে উপকৃত হওয়ার আশা করলেও তাঁদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তাঁদের অভিযোগ, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সুপারিশপ্রাপ্তদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-৩ আসনের আওতাধীন তেঘরিয়া ইউনিয়নের বাঘৈর-ঋষিপাড়া, বাঘৈর নগর, আলিয়াপাড়া, কদমপুর ও শাস্তা গ্রামের মোট ৫০৯টি পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। তবে উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা বলেন, কর্মসূচিটির মূল উদ্দেশ্য ছিল দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারকে সহায়তা দেওয়া। কিন্তু বাস্তবে সেই লক্ষ্য কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, তা নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শিবলীজ্জামান বলেন, এটি একটি পাইলট প্রকল্প। কেউ প্রকৃত উপকারভোগী হয়েও বাদ পড়ে থাকলে পরবর্তীতে তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উমর ফারুক বলেন, উপকারভোগীদের তালিকা পুনরায় যাচাই করা হবে। যাচাই-বাছাইয়ে কোনো অনিয়ম বা অসঙ্গতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ডের তালিকা পুনর্মূল্যায়ন এবং বিতরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।
আরও পড়ুন:








