বৃহস্পতিবার

২৫ জুন, ২০২৬ ১১ আষাঢ়, ১৪৩৩

কোটচাঁদপুরের ‘হুন্ডি কাজল’ ভারতে মারা গেছেন

বিশেষ প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ

প্রকাশিত: ২৫ জুন, ২০২৬ ১৬:০১

শেয়ার

কোটচাঁদপুরের ‘হুন্ডি কাজল’ ভারতে মারা গেছেন
ছবি: সংগৃহীত

শত শত মানুষকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে নিঃস্ব করার মূল হোতা, ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরের বহুল আলোচিত হুন্ডি ব্যবসায়ী কাজল আহমেদ (হুন্ডি কাজল) ভারতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা কাজল আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় একচেটিয়া হুন্ডি ও অবৈধ ব্যাংকিং ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। অধিক মুনাফা ও অল্প দিনে কোটিপতি হওয়ার লোভ দেখিয়ে তিনি কোটচাঁদপুর, মহেশপুরসহ পার্শ্ববর্তী জেলা-উপজেলার সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন।

প্রাথমিকভাবে গ্রাহকদের আকর্ষণ করতে নিয়মিত লভ্যাংশ দিলেও, একপর্যায়ে তিনি বিশাল অঙ্কের টাকা নিয়ে গা-ঢাকা দেন। তার এই প্রতারণার শিকার হয়ে শত শত মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। প্রতারিত গ্রাহকদের অনেকেই পাওনা টাকার শোকে ও মানসিক নির্যাতনে স্ট্রোক করে মারা গেছেন বলেও এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে।

টাকা আত্মসাতের পর ভুক্তভোগীরা কাজলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। একপর্যায়ে আইনি জটিলতা ও পাওনাদারদের হাত থেকে বাঁচতে তিনি অবৈধ উপায়ে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে পালিয়ে যান এবং সেখানেই আত্মগোপনে ছিলেন।

হুন্ডি কাজলের মৃত্যুর খবর কোটচাঁদপুরে পৌঁছালে স্থানীয় ভুক্তভোগীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, আইনের মুখোমুখি হওয়ার আগেই তার মৃত্যু হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো তাদের পাওনা টাকা ফেরত পাওয়ার শেষ আশাটুকুও হারাল। আবার অনেকে বলছেন, প্রকৃতির আদালতেই তার বিচার হয়েছে।

কোটচাঁদপুর থানার প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তার মৃত্যুর খবরটি মৌখিকভাবে ছড়ালেও দাফন বা পরবর্তী প্রক্রিয়ার বিষয়ে এখনো প্রাতিষ্ঠানিক কোনো তথ্য আসেনি। তবে এলাকায় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।



banner close
banner close