টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে অনুমতি ছাড়াই পুকুর খননের আড়ালে রাতভর ফসলি জমির মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। এই চক্রের নেতৃত্বে রয়েছেন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা সেলিম কমিশনার ও তার সহযোগীরা। এ নিয়ে প্রশাসনের অভিযানে জরিমানা ও সরঞ্জাম জব্দ করা হলেও থামছে না তাদের তৎপরতা। উল্টো অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে সেলিম কমিশনার বলেছেন, ‘সবকিছুতেই নাক গলাতে হয় না।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পৌর এলাকার ছাব্বিশা গ্রামে বাছেদ ও রশিদের দুটি পুকুর সংস্কারের নামে মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। গত এক সপ্তাহ ধরে রাত গভীর হলেই শুরু হয় এক্সকাভেটর (ভেকু) দিয়ে মাটি কাটার কাজ। ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নূরে আলম ও বহিষ্কৃত নেতা সেলিম কমিশনার এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। মাটি বহনের কাজে ব্যবহৃত শত শত ভারী ট্রাকের চাপে স্থানীয় এলজিইডির গ্রামীণ সড়কগুলো ধসে পড়ছে, রাস্তার পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া ধুলাবালিতে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।
এলাকার এক যুবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “সেলিম কমিশনার অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। ইউএনও সাহেব একবার বন্ধ করে দিলেও কয়েকদিন পর আবার শুরু হয়েছে। রাতভর ট্রাক চলায় আমরা ঘুমাতেও পারি না, রাস্তাও শেষ হয়ে যাচ্ছে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সেলিম কমিশনার টেলিফোনে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নিজের পুকুর কি সংস্কার করা যাবে না? আমি মাটি কিনতেই পারি, মাটি কি অবৈধ কোনো জিনিস? ১৭ বছর কোথায় ছিলেন? সারা বাংলাদেশে ভাটায় মাটির প্রয়োজন। আমার মাটি আমি বিক্রি করব, এটার জন্য জবাবদিহি করতে হবে কেন? সবকিছুতে নাক গলাতে হয় না।”
এদিকে গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) গভীর রাতে ছাব্বিশা গ্রামে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুব হাসান। অভিযানে অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে বাবু (৩১) নামে এক চালককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং একটি এক্সকাভেটরের দুটি ব্যাটারি জব্দ করা হয়।
ইউএনও মো. মাহবুব হাসান জানান, “বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া মাটি কেটে বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। এতে গ্রামীণ রাস্তাঘাট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম রেজাউল করিম বলেন, “অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে পুলিশ সব সময় সহযোগিতা করছে এবং ভবিষ্যতেও করবে।”
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৩০ মে ভূঞাপুরের লিচুর বাজারে অতিরিক্ত দাম আদায় ও সিন্ডিকেট তৈরির অভিযোগে সংবাদ প্রকাশ হলে আলোচনায় আসেন এই সেলিম কমিশনার। পরবর্তীতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বাজারের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছিল। এবার পুকুর খননের নামে মাটি বিক্রির ঘটনায় আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে তিনি।
আরও পড়ুন:








