ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র বা টিএসসিতে সৃষ্ট অতিরিক্ত উন্মাদনা ও উগ্র আচরণ নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মাঠের গ্যালারি থেকে প্রায় ১৩ হাজার ২২৬ কিলোমিটার দূরত্বের এই স্থানটিতে খেলা দেখার উছিলায় এক ধরণের ভিন্ন সংস্কৃতির নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, উৎসবের নামে সীমানা ছাড়ানো উগ্র উচ্ছ্বাসের কারণে এই প্রাঙ্গণের চিরাচরিত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ ও ঐতিহ্য ম্লান হয়ে পড়ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, টিএসসিতে বড় পর্দায় খেলা দেখার সময় বিভিন্ন ফুটবল দলের জার্সি পরিহিত তরুণ-তরুণীদের একাংশের নিয়ন্ত্রণহীন আচরণ ও অঙ্গভঙ্গি সেখানে আসা সাধারণ পরিবারগুলোর জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করছে। বিশেষ করে নির্দিষ্ট কিছু দল ও খেলোয়াড়ের প্রতি অতি-আবেগপ্রসূত কর্মকাণ্ড দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই ধরণের অতিরিক্ত মাতামাতি ও আত্মনিয়ন্ত্রণহীনতার ফলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে হাতাহাতি ও ইভটিজিংয়ের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও ঘটছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের একাংশ এই ধরণের উগ্রতাকে সুস্থ বিনোদনের পরিপন্থী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের মতে, ফুটবলপ্রেম যখন অন্ধ মোহে পরিণত হয়, তখন তা কেবল মাঠের সৌন্দর্যকেই নষ্ট করে না বরং সামাজিক বিশৃঙ্খলাও তৈরি করে। পাড়ায় পাড়ায় কোন্দল, লাঠালাঠি এবং আর্থিক অপচয়ের মতো বিষয়গুলো ক্রীড়া সংস্কৃতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, ফুটবল ভক্তদের বড় একটি অংশ নির্দিষ্ট কিছু কর্পোরেট ব্র্যান্ডের তারকাদের প্রতি অতিমাত্রায় অনুরাগী হলেও বিশ্বমঞ্চে মুসলিম তারকাদের অবদান ও সংগ্রাম সম্পর্কে উদাসীন। এছাড়া ফুটবলের এই উন্মাদনার আড়ালে বৈশ্বিক রাজনীতির বাস্তব চিত্র ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের মানবিক সংকট এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রের বিতর্কিত রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতি সচেতনতার অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ফুটবল হওয়া উচিত জাতিগত ও রাজনৈতিক বিভেদ দূর করে সম্প্রীতি তৈরির মাধ্যম। কোনো বাণিজ্যিক প্রচারণা বা অন্ধ মোহের বশবর্তী না হয়ে সুস্থ ক্রীড়াবোধ এবং যোগ্যকে প্রাপ্য সম্মান দেওয়ার মাধ্যমেই টিএসসির মূল জৌলুস ফিরিয়ে আনা সম্ভব। উগ্রতা ও অপসংস্কৃতি পরিহার করে ফুটবলের আসল সৌন্দর্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন শিক্ষার্থীরা।
আরও পড়ুন:








