বুধবার

২৪ জুন, ২০২৬ ১০ আষাঢ়, ১৪৩৩

গারো পাহাড়ে থামছে না অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন, হুমকির মুখে পরিবেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৪ জুন, ২০২৬ ২১:১৪

শেয়ার

গারো পাহাড়ে থামছে না অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন, হুমকির মুখে পরিবেশ
ছবি: বাংলা এডিশন

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড় এলাকায় অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধ হচ্ছে না। প্রশাসন ও বন বিভাগের নিয়মিত অভিযান সত্ত্বেও প্রভাবশালী একটি চক্র দিনের পাশাপাশি রাতের আঁধারেও এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ফলে পাহাড়ি পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও বনাঞ্চল মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের বনরানী, দরবেশতলা, মালিটিলা ও হালচাটিসহ গারো পাহাড়ের বিভিন্ন ছড়া ও ঝোড়া থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু ও ছোট পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ কাজে জড়িতরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না অনেকেই।

‎মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয় সূত্র জানায়, কাংশা ইউনিয়নের দরবেশতলা এলাকার কালঘোষা নদী থেকে অন্তত ১০ জনকে বালু উত্তোলন করতে দেখা যায়। এছাড়া বনরানী রিসোর্টের পেছনের একটি পাহাড়ি ঝরণা থেকেও কয়েকজনকে বালু উত্তোলনে ব্যস্ত দেখা যায়। স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

‎স্থানীয় বাসিন্দা মুক্তার আলী অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে বালু ও পাথর উত্তোলন চললেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর নীরব ভূমিকা থাকতে পারে বলে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অপরদিকে, একটি সূত্রের দাবি, স্থানীয় প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক মহলের কিছু ব্যক্তি এ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন।

‎তবে অভিযোগ অস্বীকার করে গজনী বিট কর্মকর্তা মো. সালেহীন নেওয়াজ খান বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। বন বিভাগের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী এ কাজে জড়িত নন। অবৈধ বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

‎তিনি জানান, গত সোমবার ভোরে গজনী এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু পরিবহনের সময় মাহিন্দ্র ট্রাক্টরচালিত ছয়টি মিনি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

‎উল্লেখ্য, গত ৪ জুন রাতে অবৈধ বালুবাহী ট্রাক আটককে কেন্দ্র করে গজনী বিট কর্মকর্তা সালেহীন নেওয়াজ খান ও এক বনরক্ষীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সাতজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হলেও তিনজন গ্রেপ্তার হলেও প্রধান আসামিরা এখনো পলাতক রয়েছে।

‎শেরপুর বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও পরিবেশবাদী সংগঠন ‘শাইন’-এর নির্বাহী পরিচালক মো. মুগনিউর রহমান মনি বলেন, নির্বিচারে বালু-পাথর উত্তোলন এবং গাছ কাটার ফলে গারো পাহাড়ের প্রতিবেশ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ক্ষতির প্রভাব মানুষ, পশুপাখি ও সামগ্রিক পরিবেশের ওপর পড়বে। তাই প্রকৃতি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

‎রাংটিয়া রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক তানভীর আহমেদ ইমন বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা প্রয়োজন।

‎ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল আমীন বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের খবর পেলেই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কোথাও কারাদণ্ড, কোথাও অর্থদণ্ড দেওয়া হচ্ছে। ড্রেজার মেশিন জব্দ ও পাইপলাইন ধ্বংস করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।



banner close
banner close