বুধবার

২৪ জুন, ২০২৬ ১০ আষাঢ়, ১৪৩৩

গাজীপুরে এপেক্স হোল্ডিংসের চার কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৪ জুন, ২০২৬ ১০:৫২

শেয়ার

গাজীপুরে এপেক্স হোল্ডিংসের চার কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ
ছবি সংগৃহীত

শ্রমিকদের সার্ভিস বেনিফিট সংক্রান্ত দাবিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় এপেক্স হোল্ডিংস লিমিটেডের আওতাধীন চারটি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এপেক্স হোল্ডিংস লিমিটেডের প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ২২ জুন থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কারখানাগুলোর সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

বন্ধ ঘোষিত কারখানাগুলো হলো-এপেক্স স্পিনিং অ্যান্ড নিটিং মিলস লিমিটেড, এপেক্স টেক্সটাইল প্রিন্টিং মিলস লিমিটেড, এপেক্স লন্ড্রি মিলস লিমিটেড ও এপেক্স ইয়ার্ন ডাইং লিমিটেড।

প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এসব কারখানার শ্রমিকদের একটি অংশ ১০ বছর চাকরি সম্পন্নকারীদের জন্য ১৫ মাসের এবং ৫ বছর চাকরি সম্পন্নকারীদের জন্য ৭ মাসের মূল মজুরি সার্ভিস বেনিফিট হিসেবে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিল। এই দাবির বিষয়ে গত ১৫ জুন কারখানার নিটিং ফ্লোরে শ্রমিক প্রতিনিধি, কারখানা কর্তৃপক্ষ, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই) এবং বিজিএমইএ প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে ডিআইএফই প্রতিনিধিরা জানান যে, সার্ভিস বেনিফিট অবশ্যই বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী পরিশোধ করতে হবে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২০ জুন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে, বর্তমানে প্রচলিত সার্ভিস বেনিফিট সুবিধা পূর্বের নিয়মেই বহাল থাকবে। শ্রমিকদের দাবি করা অতিরিক্ত সার্ভিস বেনিফিট প্রদান করা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয় বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে শ্রম আইন মেনে স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

তবে বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, গত ২১ জুন শ্রমিকদের একটি অংশ আইনবহির্ভূত দাবি আদায়ের উদ্দেশ্যে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে কারখানায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এ অবস্থায় কারখানা ও জননিরাপত্তার স্বার্থে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩(১) ধারা অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলো বন্ধ রাখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কারখানা আবার চালুর বিষয়ে শ্রমিকদের পরবর্তীতে অবহিত করা হবে।

সার্বিক বিষয়ে গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন জানান, শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনার পরও উভয় পক্ষ কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। এই প্রেক্ষাপটে কর্তৃপক্ষ শ্রম আইন অনুযায়ী কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে। বর্তমানে কারখানা এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি।



banner close
banner close