মঙ্গলবার

২৩ জুন, ২০২৬ ৯ আষাঢ়, ১৪৩৩

গ্রেফতারি পরোয়ানা সত্ত্বেও ধরাছোঁয়ার বাইরে নাভানা গ্রুপের ৮ শীর্ষ কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ জুন, ২০২৬ ২০:৫২

শেয়ার

গ্রেফতারি পরোয়ানা সত্ত্বেও ধরাছোঁয়ার বাইরে নাভানা গ্রুপের ৮ শীর্ষ কর্মকর্তা
ছবি সংগৃহীত

শ্রম আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কর্মীর পাওনা পরিশোধ না করায় নাভানা গ্রুপ ও আফতাব অটোমোবাইলস লিমিটেডের মালিকপক্ষের চারজন ও শীর্ষ চার কর্মকর্তাসহ মোট আটজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। গত ৩ মে ২০২৬ তারিখে আদালত এই পরোয়ানা জারি করলেও আজ পর্যন্ত অভিযুক্তদের কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিরা রাজধানী ঢাকাতেই নিয়মিত অফিস ও সামাজিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, প্রথম শ্রম আদালতে দায়ের করা বি.এল.এ (মজুরী) মামলা নং ১৫২/২০২০-এর প্রেক্ষিতে গত ৮ মে ২০২৫ তারিখে বাদী কফিল উদ্দিনের পক্ষে রায় প্রদান করেন আদালতের চেয়ারম্যান (জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ গোলাম আযম। রায়ে বাদীকে তার সমুদয় পাওনা বাবদ ২৩ লক্ষ টাকা বুঝিয়ে দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়। আদালত স্পষ্ট উল্লেখ করেন যে, এই পাওনা পরিশোধে ব্যর্থ হলে বাদী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন। মালিকপক্ষ এই পাওনা পরিশোধ না করায় গত ৩ মে ২০২৬ তারিখে আটজন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়।

গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা হলেন-নাভানা গ্রুপের চেয়ারম্যান শফিউল ইসলাম কামাল, ম্যানেজিং ডিরেক্টর খালেদা ইসলাম, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম সুমন, ভাইস চেয়ারম্যান সাজেদুল ইসলাম শুভ্র এবং শীর্ষ কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন মিয়া, ফারজানা ইয়াসমিন, ইমরান বিন ফেরদৌস ও মোহাম্মদ মনিরুল আলম।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, অভিযুক্ত ৮ জনের মধ্যে ৭ জনই বর্তমানে দেশে অবস্থান করছেন। এর মধ্যে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম সুমন ৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে কানাডায় অবস্থান করছেন। বাকি ৭ জন আসামি নিয়মিত গুলশান ও তেজগাঁও এলাকার কার্যালয়ে অফিস করছেন এবং সামাজিক অনুষ্ঠানাদিতে অংশ নিচ্ছেন। এমনকি ভাইস চেয়ারম্যান সাজেদুল ইসলাম শুভ্র গত দুদিন আগে একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। আসামিদের অবস্থানের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলেও তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা বা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ তাদের গ্রেফতারে কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা দেখায়নি।

তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে যে, সাইফুল ইসলাম সুমন এবং সাজেদুল ইসলাম শুভ্র ২০২০ ও ২০২২ সালে প্রায় ৪ লক্ষ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করে দ্বীপরাষ্ট্র অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানানো হয়েছে, এভাবে বিদেশে বিনিয়োগ করে নাগরিকত্ব গ্রহণের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং এই প্রক্রিয়াটি অবৈধ। সাইফুল ইসলাম সুমনের বিরুদ্ধে ভুয়া কোম্পানি খুলে এবং অন্যের জাল স্বাক্ষরে ব্যাংক ঋণ গ্রহণসহ নানা আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে আইএফআইসি ব্যাংকের একটি ঋণ সুদে-আসলে বর্তমানে ৭০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এছাড়া হিনো বাসের ভুয়া নিবন্ধনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ন্যাশনাল ফাইন্যান্সের একটি মামলা বর্তমানে সিআইডিতে তদন্তাধীন রয়েছে।

কালীগঞ্জ এলাকায় নাভানা রিয়েল এস্টেটের ল্যান্ড প্রজেক্টের জন্য ভয়ভীতি দেখিয়ে সাধারণ মানুষের জমি লিখে নেওয়া এবং প্রজেক্টের গ্রাহকদের হয়রানি করার জন্য একটি বিশেষ বাহিনী ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে এই মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠানের সাবেক ও বর্তমান কর্মীদের অভিযোগ, প্রভিডেন্ট ফান্ড বা বকেয়া পাওনা দাবি করলেই মালিকপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও বিভিন্নভাবে হয়রানি করে থাকে।

আদালতের রায় এবং গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর না হওয়ায় বিচারিক প্রক্রিয়া ও আইনের শাসন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। ভুক্তভোগী কর্মীর পাওনা আদায় এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।



banner close
banner close