আর্থিক সংকট ও দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক জটিলতার কারণে গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকার পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠান ইউনিক ডিজাইনার্স এবং ইউনিক ওয়াশিং লিমিটেড স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কারখানা দুটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় ১ হাজার ৮০০ শ্রমিক একযোগে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এর ফলে দীর্ঘদিনের কর্মস্থল হারিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ, হতাশা ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খলিলুর রহমান জানান, আর্থিক সংকটসহ বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে কারখানা কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠান দুটি স্থায়ীভাবে বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ১৬ জুন থেকেই এই কারখানা দুটির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ছিল।
শ্রমিকদের বকেয়া বেতন, সার্ভিস বেনিফিট ও অন্যান্য আইনানুগ পাওনা পরিশোধের লক্ষ্যে গত ২১ জুন গাজীপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২-এর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইনের সভাপতিত্বে আয়োজিত ওই বৈঠকে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডাইফ), শ্রম অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদ আহমেদ এবং বিভিন্ন শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শ্রমিকদের এপ্রিল মাসের অবশিষ্ট ১৫ দিনের এবং মে মাসের ১৮ দিনের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে। একই সাথে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া বেতনও পরিশোধের আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া চাকরি অবসানের কারণে শ্রমিকদের ৩০ দিনের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ নোটিশ পে হিসেবে এবং চাকরির প্রতি বছরের বিপরীতে ২০ দিনের মূল বেতন হারে সার্ভিস বেনিফিট দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পাশাপাশি প্রমাণ সাপেক্ষে মাতৃত্বকালীন সুবিধা, অর্জিত ছুটির অর্থ, পদত্যাগকারী শ্রমিকদের রিজাইন বেনিফিট এবং বিভিন্ন তহবিলে জমাকৃত অর্থও পরিশোধ করা হবে। চুক্তি অনুযায়ী আগামী ২৭ জুলাই সব পাওনা একযোগে পরিশোধ করার কথা রয়েছে।
তবে এই সমঝোতা চুক্তিকে পুরোপুরি শ্রমিকবান্ধব নয় বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের গাজীপুর মহানগর সভাপতি শফিউল আলম। তিনি অভিযোগ করেন, ২১ জুনের চুক্তিতে শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের প্রাপ্য সব সুযোগ-সুবিধা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত হয়নি। এতে অনেক শ্রমিক তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন। তার মতে, ঈদের আগে বেতন-ভাতা নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছিল তা আলোচনার মাধ্যমে মিটে গেলেও পরবর্তী সময়ে মালিকপক্ষ কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় শত শত শ্রমিক হঠাৎ বেকার হয়ে পড়েছেন।
কারখানার শ্রমিক বিল্লাল সোহাগসহ সাধারণ শ্রমিকরা হঠাৎ কাজ হারিয়ে তাদের পরিবার ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন। তাদের দাবি, আগামী ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে প্রতিশ্রুত সব পাওনা পরিশোধের পাশাপাশি বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করে। বর্তমানে কারখানা বন্ধের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
আরও পড়ুন:








