সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বিষমডাঙা স্কুল এন্ড কলেজের কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের ধারাবাহিক যৌন হয়রানির অভিযোগে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় তাড়াশ উপজেলা পরিষদের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচি থেকে অভিযুক্ত শিক্ষকদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
সম্প্রতি ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের হাতে ছাত্রীদের হয়রানির বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জনসমক্ষে আসে। এর প্রতিবাদে আয়োজিত সভায় বক্তব্য রাখেন পরিবেশ ও জলবায়ু কর্মী ফয়সাল বিশ্বাস এবং সিরাজগঞ্জ জেলা হিন্দু ছাত্র মহাসংঘের সাবেক সভাপতি অনন্ত কুমার মাহাতো। এছাড়াও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পক্ষে সৃষ্টি রানী মাহাতো, আম্বিয়া খাতুন এবং অভিভাবকদের পক্ষ থেকে অন্তর কুমার মাহাতো ও সুশীল কুমার মাহাতো প্রতিবাদ সভায় অংশ নেন।
বক্তাদের দাবি অনুযায়ী, বিষমডাঙা স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আব্দুল আলিম এবং সহকারী শিক্ষক জহুরুল ইসলাম খোকনসহ মোট চারজন শিক্ষক দীর্ঘ সময় ধরে ছাত্রীদের যৌন হয়রানি করে আসছিলেন। ভুক্তভোগীরা জানান যে এই বিষয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হতো। তবে সম্প্রতি কয়েকজন শিক্ষার্থী সাহসিকতার সাথে মুখ খোলায় বিষয়টি জানাজানি হয় এবং প্রশাসনের নজরে আসে।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২২ জুন তাড়াশ উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ এবং সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ের নারী তদন্ত টিমের সমন্বয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ওই শুনানিতে শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা মৌখিকভাবে স্বীকার করেন। তদন্ত কমিটি এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কেন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানানোর জন্য প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দিয়েছেন।
পরিবেশ ও জলবায়ু কর্মী ফয়সাল বিশ্বাস জানান যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর সুনির্দিষ্টভাবে অভিযুক্তদের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি প্রদান করেন যে যদি তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের দায়মুক্ত করার কোনো চেষ্টা করা হয়, তবে সাধারণ মানুষ প্রশাসনের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলনে নামবে।
এদিকে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল আলিম তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন যে এটি একটি ষড়যন্ত্র এবং একটি স্বার্থান্বেষী মহল প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে শিক্ষার্থীদের উসকে দিচ্ছে।
তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুসরাত জাহান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে অভিযোগের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুন:








