মাগুরা সদর উপজেলার জগদল ইউনিয়নের মাঝিপাড়া এলাকায় একটি বন্যপ্রাণীকে ঘিরে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি বাঘের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে, শনিবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে গ্রামের পাকা সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে একটি বাঘ দেখা যাওয়ার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় যুবক ইসরাফিল হোসেন জানান, রাতে স্থানীয় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তার পাশের ঝোপঝাড় থেকে হঠাৎ একটি বন্যপ্রাণী তার সামনে চলে আসে। অপ্রত্যাশিত এ ঘটনায় তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়লেও সাহস করে মোবাইল ফোনে প্রায় সাত সেকেন্ডের একটি ভিডিও ধারণ করেন।
পরে তিনি স্থানীয় বাজারে গিয়ে বিষয়টি এলাকাবাসীকে জানান। প্রথমে অনেকেই তার কথা বিশ্বাস না করলেও ভিডিও ফুটেজ দেখার পর ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এরপর কয়েকজন মিলে প্রাণীটিকে খুঁজতে বের হলেও রাতের অন্ধকারে আর সেটির সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এদিকে প্রাণীটিকে নিয়ে এলাকায় নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। কেউ এটিকে চিতা বাঘ, আবার কেউ মেছো বাঘ বলে দাবি করছেন। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বেশি দেখা দিয়েছে। কারণ, প্রাণীটি যে স্থানে দেখা গেছে, তার আশপাশে বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।
মাঝিপাড়া এলাকার বাসিন্দা ইদ্রিস আলী বলেন, প্রথমে আমার ভাতিজার কথা বিশ্বাস হয়নি। পরে সে আমাদের ভিডিওটি দেখালে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাণীটিকে দেখতে পাই। তবে চেষ্টা করেও সেটিকে ধরতে পারিনি। বর্তমানে এলাকাবাসী আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ওই রাতে পাশের একটি বাড়ি থেকে চারটি মুরগি নিখোঁজ হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রাণীটি মুরগিগুলো ধরে খেয়ে ফেলেছে।
এ বিষয়ে জেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা তপেনন্দ্রনাথ ঠাকুর ভিডিওটি পর্যালোচনা করে বলেন, ভিডিওতে দেখা প্রাণীটি একটি মেছো বাঘ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায় এখনো মেছো বাঘের দেখা মেলে। সাধারণত ঝোপঝাড়, জলাশয় ও পুকুরপাড় এলাকায় এদের বসবাস। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করা হবে।
প্রাণীটির উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই মাঝিপাড়া ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। এ পরিস্থিতিতে বন বিভাগের দ্রুত পদক্ষেপ এবং প্রাণীটির অবস্থান শনাক্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
আরও পড়ুন:








