ভারতের মেঘালয় রাজ্যে টানা ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে সিলেটের জাফলং জিরো পয়েন্ট এলাকার শতাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর দোকানপাট লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। শনিবার দিবাগত গভীর রাতে পিয়াইন নদীর পানি হঠাৎ অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় এই বিপর্যয় নেমে আসে। প্রবল স্রোতে বিপুল পরিমাণ মালামাল ভেসে যাওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, মেঘালয়ে রেকর্ড বৃষ্টিপাতের পর গভীর রাতে পিয়াইন নদীতে পানির স্তর দ্রুত বাড়তে শুরু করে। ঢলের তীব্রতা বেশি থাকায় অধিকাংশ ব্যবসায়ী তাদের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাননি। পর্যটন মৌসুমকে সামনে রেখে ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সংগৃহীত পণ্য ও ব্যবসায়িক কাঠামো হারিয়ে অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বর্তমানে নিঃস্ব অবস্থায় রয়েছেন।
জাফলং পর্যটন কেন্দ্র ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন জানান যে পাহাড়ি ঢলের কারণে কয়েকশ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সর্বস্ব হারিয়েছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দ্রুত পুনর্বাসন ও জরুরি আর্থিক সহায়তার দাবি জানান। এছাড়া পর্যটন কেন্দ্রের সিঁড়ির নিচ থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের জন্য নিরাপদ ও স্থায়ী শেড নির্মাণ করা জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলা না হলে এই অঞ্চলের পর্যটননির্ভর অর্থনীতি বারবার বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
এদিকে পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে জাফলং ছাড়াও গোয়াইনঘাট উপজেলার অন্তত তিনটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। হাওরাঞ্চলের বহু পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে এবং পিয়াইন নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী জানিয়েছেন যে মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পিয়াইন নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে জাফলংয়ের জিরো পয়েন্ট এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার সংবাদ প্রশাসন পেয়েছে। তিনি আরও জানান যে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকা ও ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
আরও পড়ুন:








