নরসিংদীতে দায়িত্ব পালনকালে র্যাব-১১-এর এক সদস্যের ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত তিনজনসহ আর ১০/১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
আটককৃতরা হলেন, নরসিংদী শহরের সাটিরপাড়ার মোসলেম উদ্দিনের ছেলে মাজেদুল ইসলাম রাজীব, নজরপুর ইউনিয়নের ছগোরিয়া পাড়ার আলতাফ হোসেনের ছেলে আশিক মিয়া, রায়পুরা উপজেলার চর আড়ালিয়া ইউনিয়নের বাঘাইকান্দি গ্রামের আবু কালামের ছেলে আলাল মিয়া।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে নরসিংদী শহরের বেলদির মোড় পুলিশ লাইন্স এলাকায় মদিনা মোটরস ও হিরো শোরুমের সামনে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পলাতক আসামি গ্রেপ্তারের উদ্দেশে অভিযান পরিচালনা করছিলেন র্যাব-১১-এর কনস্টেবল মিজানুর রহমানসহ একটি দল। এ সময় আলাল মিয়া নামে এক ব্যক্তি এসে র্যাব সদস্য মিজানুর রহমানকে গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ করা হয়। পরে তার সঙ্গে থাকা আশিক মিয়া কোনো কারণ ছাড়াই কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে তাকে আহত করেন। একপর্যায়ে মাজেদুল ইসলাম (রাজীব) দৌড়ে এসে হাতে থাকা স্টেইনলেস স্টিলের পাইপ দিয়ে মিজানুর রহমানের বাম পায়ে আঘাত করলে তিনি মাটিতে পড়ে যান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরও অভিযুক্তরা তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে থাকেন। এ সময় আশিক মিয়া তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেন। পরে তার চিৎকারে সঙ্গে থাকা র্যাব সদস্য রাকিবুল ইসলামসহ অন্যান্য সদস্য এবং স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তিনজনকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে আহত র্যাব সদস্য প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে নরসিংদী মডেল থানায় হাজির হয়ে মামলা দায়ের করেন।
জানতে চাইলে র্যাব সদস্য মিজানুর রহমান কল রিসিভ ধরে বিকেলে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন। পরে আর তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সুজন চন্দ্র সরকার বলেন, দুপুর আড়াইটার দিকে একজন র্যাব সদস্যের ওপর হামলা করা হয়েছে, এতে আমরা তিনজনকে আটক করেছি। নরসিংদী সদর থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। আসামিদের আদালতে প্রেরণ করা হবে। আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখবো। আরও যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসবো।
আরও পড়ুন:








