সাভারের আশুলিয়ায় গত ১৭ জুন বুধবার দুপুরে একটি মাদ্রাসার নির্মাণাধীন শৌচাগার থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে র্যাব। আশুলিয়ার অন্যতম পরিচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাহফিযুল কুরআনিল কারিম ফাযিল মাদ্রাসায় এই অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনাটিকে মাদ্রাসার সুনাম ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।
র্যাবের এজাহার অনুযায়ী, উদ্ধারকৃত পিস্তলটির গায়ে মেড ইন পাকিস্তান লেখা রয়েছে। তবে এই ঘটনা নিয়ে তদন্তকারী ও সংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মাদ্রাসার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির সাবেক নিরাপত্তা ইনচার্জ মুন্না মোল্লা ঘটনার দিন মোটরসাইকেলে করে মাদ্রাসায় আসেন এবং অত্যন্ত স্বাভাবিক ভঙ্গিতে নির্মাণাধীন ভবনের ওই শৌচাগারে প্রবেশ করেন। সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থানের পর তিনি বের হয়ে কাউকে ফোন করেন। মুন্না মোল্লা মাদ্রাসা ত্যাগ করার পরপরই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ছদ্মবেশে র্যাবের একটি দল সেখানে অভিযান পরিচালনা করে।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, নানা অনিয়ম ও অসদাচরণের দায়ে কয়েক মাস আগে চাকরিচ্যুত হওয়া মুন্না মোল্লা সুপরিকল্পিতভাবে সেখানে অস্ত্রটি রেখে গিয়েছিলেন। তাহফিযুল কুরআনিল কারিম ফাযিল মাদ্রাসার উপ-পরিচালক সৈয়দ সানজিদ জানান, প্রতিষ্ঠানটির সুনাম নষ্ট করতে এবং এটি দখল করার উদ্দেশ্যে একটি মহল দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে অপতৎপরতা চালিয়ে আসছে। এর আগে স্থানীয় বিএনপি নেতা জাকির হোসেন এবং সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের ঘনিষ্ঠ মারুফ হোসেন মকুলের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানে হামলা ও চাঁদা দাবির ঘটনা ঘটেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মাদ্রাসার বর্তমান সিকিউরিটি ইনচার্জ আলতাফ হোসেন জানান, শৌচাগারে তল্লাশি চালিয়ে একটি হলুদ ব্যাগের ভেতর থেকে পেস্ট রঙের আরেকটি ব্যাগ পাওয়া যায়, যার ভেতরে পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি ছিল। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত বিএনপি নেতা জাকির হোসেন।
অস্ত্রের গায়ে দেশের নাম খোদাই থাকার বিষয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষক কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান জানান, পিস্তলের গায়ে কোনো ব্র্যান্ড বা দেশের নাম লেখা থাকলেই সেটি সেই দেশের তৈরি অস্ত্র হিসেবে নিশ্চিত হওয়া যায় না। বাজারে বিভিন্ন দেশের তৈরি প্রচুর নকল অস্ত্র পাওয়া যায় যা সাধারণ মানুষের পক্ষে শনাক্ত করা কঠিন।
এই ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, র্যাবের একটি দল মাদ্রাসা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করে থানায় হস্তান্তর করেছে। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিকে ষড়যন্ত্রমুক্ত রাখতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
আরও পড়ুন:








