রবিবার

২১ জুন, ২০২৬ ৮ আষাঢ়, ১৪৩৩

পাহাড়ে কিশোরী নিখোঁজ সিন্ডিকেটের রহস্য উন্মোচন ও দুই বান্ধবী উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০ জুন, ২০২৬ ২৩:৪২

শেয়ার

পাহাড়ে কিশোরী নিখোঁজ সিন্ডিকেটের রহস্য উন্মোচন ও দুই বান্ধবী উদ্ধার
ছবি বাংলা এডিশন

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও বাঁশখালী সীমান্তবর্তী দুর্গম বেলগাঁও চা বাগান এলাকায় স্কুলপড়ুয়া দুই নাবালিকা কিশোরী নিখোঁজের ঘটনায় জড়িত প্রধান অভিযুক্তসহ ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। উগ্রপন্থী চক্রের মাধ্যমে পাহাড়ি জনপদ থেকে মুসলিম কিশোরীদের অপহরণ ও ধর্মান্তরিত করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে অনুসন্ধানে নেমে বাঁশখালী থানা পুলিশ ও মিরসরাই সার্কেল পুলিশ এই রহস্য উদঘাটন করে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জানুয়ারি বাঁশখালীর পুকুরিয়া গ্রামের সুনীল দাসের ছেলে বিপ্লব দাস নামের এক যুবকের সহযোগিতায় ১৪ বছর বয়সী সায়মা আক্তার নিখোঁজ হয়। পরবর্তীতে গত ১২ জুন স্থানীয় বাসিন্দাদের ব্যাপক আন্দোলনের মুখে ১৩ জুন বাঁশখালী থানা পুলিশ সায়মাকে উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া সায়মা এবং গত ৭ জুন বিদ্যালয় যাওয়ার পথে নিখোঁজ হওয়া নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী জোহাইদা আবেদীন ইরিন পরস্পর ঘনিষ্ঠ বান্ধবী। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রধান অভিযুক্ত টুটুল রায়সহ নিখোঁজ ইরিনকে মিরসরাই থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে অনুসন্ধান নামে বাংলা এডিশন।

ঘটনার অনুসন্ধানে জানা যায়, তুলাতলী বাজারের সেলুনকর্মী টুটুল রায় এবং পাশের বাড়ির বিপ্লব দাস স্থানীয় একটি আশ্রম ও শ্রীমত স্বামী অক্ষরানন্দ পুরী মহারাজ নামের এক কথিত সাধুর আশ্রয়ে থেকে উগ্রপন্থী কার্যক্রমের সাথে যুক্ত ছিলেন। অভিযুক্ত টুটুলের মা বন্ধনা রায় ক্যামেরার সামনে স্বীকার করেছেন যে, তার ছেলে একটি উগ্র সংগঠনের সাথে জড়িত ছিল এবং এক মুসলিম মেয়েকে নিয়ে পালিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, একটি সংগঠিত চক্র পাহাড়ি এলাকার সরল মুসলিম মেয়েদের প্রলোভন ও জোরপূর্বক তুলে নিয়ে বিপুল অর্থের বিনিময়ে ধর্মান্তরিত করছে। সায়মাকে উদ্ধারের পর তাকে ধর্মান্তরিত ও গর্ভবতী করার তথ্যও জানান স্থানীয়রা।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পদক্ষেপ ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রবিউল হক জানান, উদ্ধার হওয়া সায়মার ঘটনায় কঠোর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর সদস্য এবং মামলাটি বর্তমানে নিখুঁতভাবে তদন্তাধীন রয়েছে। ভুক্তভোগী সায়মার বাবা বাদশা মিয়া প্রথম দিকে পুলিশের বিরুদ্ধে মামলার মূল ধারা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ করলেও পুলিশ আইনি কঠোরতা নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে মিরসরাই সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ নাদিম হায়দার চৌধুরী জানান, টুটুল ও ইরিন বর্তমানে তাদের হেফাজতে রয়েছে এবং ঘটনার নেপথ্যের আসল রহস্য উদঘাটনে প্রশাসন তৎপর রয়েছে।

এ বিষয়ে বেলগাঁও চা বাগানের ব্যবস্থাপক আবুল বাশার জানান, নিখোঁজ কিশোরীদের উদ্ধারে বাগান কর্তৃপক্ষ শুরু থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদান করেছে।

ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত অন্য বন্ধুদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং মোবাইল কল রেকর্ডের সূত্র ধরে পুলিশ এই অন্ধকার সিন্ডিকেটের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।



banner close
banner close