রবিবার

২১ জুন, ২০২৬ ৮ আষাঢ়, ১৪৩৩

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি চার এমপির

নীলফামারী প্রতিনিধি:

প্রকাশিত: ২০ জুন, ২০২৬ ২১:৫০

শেয়ার

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি চার এমপির
ছবি সংগৃহীত

তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে শনিবার নীলফামারীর তিস্তা ব্যারেজ এলাকা থেকে জলঢাকা পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটি। কর্মসূচিতে নীলফামারী জেলার চারটি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য পরিকল্পনার পরিবর্তে বাস্তবায়ন দেখতে চাওয়ার দাবি জানিয়ে প্রশ্ন তোলেন, কবে নাগাদ মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু হবে।

মানববন্ধনে নীলফামারী জেলার চারটি আসনের সংসদ সদস্যসহ জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী, তিস্তা পাড়ের সাধারণ মানুষ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। বক্তব্য দেন নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার, নীলফামারী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আল ফারুক আব্দুল লতিফ, নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফি এবং নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম।

বক্তারা বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি হয়েছে। এখন আর আশ্বাস বা পরিকল্পনা নয়, প্রকল্পের বাস্তবায়ন দেখতে চান তিস্তা পাড়ের মানুষ। তারা প্রশ্ন তোলেন, কবে থেকে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু হবে এবং দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান।

অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার হলেও তিস্তা মহাপরিকল্পনা এখনও বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনার কথা শোনা গেলেও এখন আর নতুন কোনো পরিকল্পনা নয়, প্রকল্পের বাস্তব কাজ শুরু হতে দেখতে চান উত্তরাঞ্চলের মানুষ। তিনি বলেন, সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদের তিন সদস্যের তিস্তা পরিদর্শনকে তারা স্বাগত জানাচ্ছেন। তবে তিস্তা নিয়ে আর কোনো রাজনৈতিক আলোচনা নয়, দ্রুত বাস্তবায়নই এখন সময়ের দাবি।

তিনি আরও বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত নয় সদস্যের কমিটি শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থেকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে তারা আশা করেন। তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে এ প্রকল্প নিয়ে একটি খসড়া চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু এখনো প্রকল্প বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় উত্তরাঞ্চলের প্রায় দুই কোটি মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। দেশের স্বার্থে এবং উত্তরাঞ্চলকে খরা, নদীভাঙন ও মরুকরণের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অ্যাডভোকেট আল ফারুক আব্দুল লতিফ বলেন, বাংলাদেশের বেশিরভাগ নদী ভারত থেকে প্রবাহিত। বর্ষায় পানি ছেড়ে দিয়ে এবং শুষ্ক মৌসুমে পানি আটকে রেখে ভারত বাংলাদেশকে মরুভূমিতে পরিণত করার চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিস্তার তীরবর্তী অঞ্চল দেশের খাদ্য উৎপাদনের অন্যতম প্রধান এলাকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সবুজ-শ্যামল অঞ্চল রক্ষায় সরকারকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।

মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফি বলেন, তিস্তার দুই ধারের জমি থেকে যে ট্যাক্স আসে, তা যথাযথভাবে কাজে লাগালে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব। উত্তরবঙ্গকে দেশের খাদ্যশস্যের ভান্ডার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃষকরা সঠিক মূল্য ও পরিবহন সুবিধার অভাবে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম বলেন, উত্তরবঙ্গের প্রায় দুই কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা তিস্তার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার গড়িমসি করলে এ অঞ্চলের মানুষ আন্দোলনে নামবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। আগামী সংসদ অধিবেশনে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বাজেট প্রস্তাব রাখার দাবি জানান তিনি।



banner close
banner close