পদ্মার তীর ঘেঁষে বসবাস করা ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের মানুষের চোখে এখন শুধুই পানি। সেই পানি কখনো চোখের, কখনো আবার বুকভরা কষ্টের। বর্ষার আগমনের সঙ্গে সঙ্গে ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে পদ্মা নদী। তীব্র স্রোত আর ঢেউয়ের আঘাতে একের পর এক বসতভিটা, ফসলি জমি ও স্থাপনা চলে যাচ্ছে নদীগর্ভে।
মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ফরিদপুর সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের প্রায় অর্ধ কিলোমিটার এলাকা পদ্মার পেটে চলে গেছে। নদীর করাল গ্রাসে শত শত একর আবাদি জমি হারিয়ে এখন নিঃস্ব হওয়ার পথে কয়েকশ পরিবার।
সরেজমিনে শনিবার সকালে নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউসুফ মাতুব্বরের ডাঙ্গী, আসমত আলীর ডাঙ্গী ও শুকুর আলী মৃধা ডাঙ্গী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদীর তীরে ভাঙনের ক্ষতচিহ্ন। কোথাও বসতঘর ভেঙে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে, কোথাও শেষ সম্বলটুকু রক্ষায় ব্যস্ত পরিবারের সদস্যরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পদ্মার স্রোত দিন দিন ভয়ংকর হয়ে উঠছে। রাতের আঁধারে নদীর গর্জন শুনে ঘুমাতে পারেন না তারা। কখন যে বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়ে যাবে, সেই আতঙ্কে অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাচ্ছেন।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবেই প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে এই অঞ্চলের মানুষকে ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। ভাঙন রোধে অতীতে জিও ব্যাগসহ বিভিন্ন কার্যক্রম নেয়া হলেও তা স্থায়ী সমাধান আনতে পারেনি বলে দাবি স্থানীয়দের।
তীব্র ভাঙনের কারণে বর্তমানে হুমকিতে রয়েছে চরটেপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কমিউনিটি ক্লিনিক, মসজিদসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। স্থানীয়দের ভাষ্য, নদী এখন এসব স্থাপনা থেকে মাত্র কয়েকশ মিটার দূরে অবস্থান করছে।
নর্থচ্যানেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, নদীভাঙনের ভয়াবহ পরিস্থিতির বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরও বড় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব হোসেন জানান, ভাঙনকবলিত নতুন এলাকাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রকল্প প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে।
ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। জরুরি ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, সাময়িক উদ্যোগ নয়, পদ্মার ভয়াল ভাঙন থেকে রক্ষায় প্রয়োজন স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ। নইলে প্রতিবছর বর্ষায় এই জনপদের মানুষকে হারাতে হবে তাদের বসতভিটা, জমি ও জীবনের নিরাপত্তা।
আরও পড়ুন:








