রবিবার

২১ জুন, ২০২৬ ৮ আষাঢ়, ১৪৩৩

সুনামগঞ্জে কবরস্থানে হত্যা মামলার আসামির গাজার আস্তানা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০ জুন, ২০২৬ ১৬:৩৭

শেয়ার

সুনামগঞ্জে কবরস্থানে হত্যা মামলার আসামির গাজার আস্তানা
ছবি: সংগৃহীত

গলায় বড় বড় লোহার চেইন হাতে বিভিন্ন ধরনের আঙটি ও ব্রেসলেট মাথায় সাদা পাগড়ি, হাতে দাড়ালো দা ও লোহার রড প্রথম দেখাতেই ভয়ে আঁতকে উঠবে যে কেউ। এভাবেই বসবাস করছেন এক ব্যক্তি গ্রামের শতবর্ষী কবরস্থানে। নিজেকে ‘স্বপ্নে আদিষ্ট পীর’ পরিচয় দেয়া এই ব্যক্তি আসলে একটি হত্যা মামলার প্রধান আসামি।

তবে এলাকাবাসী অভিযোগ করছেন নিজেকে আইনের হাত থেকে বাঁচাতে ও বিভিন্ন অপরাধ করতে কবরস্থানে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন এই কথিত পীর শুদু তাই নয় পবিত্র কবরস্থানে গড়ে তুলেছেন গাজাসহ বিভিন্ন মাদকের আস্তানা। প্রায় দুই বছর কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার একটি কবরস্থানে বসবাস করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাজিতপুর গ্রামের বাসিন্দা অভিযুক্ত গয়াছ মিয়া (৩৫) প্রায় এক বছর ধরে গ্রামের শতবর্ষী পঞ্চায়েতি কবরস্থানের একটি বড় গাছের নিচে বাঁশ-বেত দিয়ে তৈরি দোতলা ঘরে বসবাস করছেন। মাথায় সাদা পাগড়ি ও হাতে লোহার রড নিয়ে চলাফেরা করেন। নিজেকে পরিচয় দেন একজন ‘পীর’ হিসেবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২০ সালের ৪ এপ্রিল তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে বিরোধের জেরে দুই যুবককে ছুরিকাঘাত করেন গয়াছ মিয়া। এতে জাকির হোসেন নামে একজন নিহত হন। গুরুতর আহত হন জিহান মিয়া নামের আরেকজন। পরে পুলিশ গয়াছ মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। কিছুদিন কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ‘স্বপ্নে আদিষ্ট পীর’ পরিচয়ে কবরস্থানের নির্জন জঙ্গলে তিনি আস্তানা গড়ে তুলেছেন। সেখানে গাঁজা-মদের আসরসহ বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে করে স্থানীয় বাসিন্দা, বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

গত ১৭ জুন এলাকাবাসী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। এতে গয়াছ মিয়ার আস্তানা উচ্ছেদ, কবরস্থান রক্ষা এবং মসজিদের সম্পত্তি উদ্ধারের দাবি জানানো হয়।

বাজিতপুর গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা কামাল উদ্দিন বলেন, গয়াছ মিয়া কবরস্থানে আস্তানা গড়ে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র নিয়ে চলাফেরা করেন। তার ভয়ে এলাকার চারটি স্কুলের শিক্ষার্থীরা আতঙ্ক নিয়ে চলাফেরা করে।

সদর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জুয়েল মিয়া বলেন, হত্যা মামলার প্রধান আসামি হিসেবে পরিচিত গয়াছ মিয়া জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর কবরস্থান এলাকার জঙ্গলে বসবাস শুরু করেন। তার হাতে প্রায়ই লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়। শিক্ষার্থীরা ওই পথ দিয়ে যাতায়াতে ভয় পাচ্ছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গয়াছ মিয়া।তিনি বলেন স্বপ্নে এক অলি-আউলিয়ার নির্দেশ পেয়ে তিনি সেখানে অবস্থান করছেন। তিনি কোনো মাদক বা জুয়ার আসর পরিচালনা করেন না।

দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার বাংলা এডিশন কে জানান, বাজিতপুর গ্রামের কিছু লোক গয়াছ মিয়ার বিরুদ্ধে মাদক সংক্রান্ত ও অন্যান্য অভিযোগ করেছেন, মাদকের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে হত্যা মামলার বিষয়ে তিনি বলেন আমি নতুন আসছি আমি আসার আগেই হয়ত এই ঘটনা তবে খুঁজ নিয়ে জানাব।

দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরুপ রতন সিংহ বাংলা এডিশন কে জানান, দোয়ারাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ তরিকুল ইসলাম তালুকদার এ বিষয়ে আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। লিখিত অভিযোগের বিষয়ে যত দ্রুত সম্ভব তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।



banner close
banner close