শুক্রবার

১৯ জুন, ২০২৬ ৫ আষাঢ়, ১৪৩৩

খেজুর বীজের কফিতে নতুন সম্ভাবনা

বাগেরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯ জুন, ২০২৬ ১১:২৯

শেয়ার

খেজুর বীজের কফিতে নতুন সম্ভাবনা
ছবি সংগৃহীত

এতদিন যে খেজুরের বীজকে অপ্রয়োজনীয় ভেবে ফেলে দেওয়া হতো, সেই বীজ দিয়েই তৈরি হচ্ছে সুস্বাদু কফি। বাগেরহাট সদর উপজেলার উৎকুল এলাকার পল্লী চিকিৎসক হাওলাদার মোহাম্মদ আলীর উদ্ভাবনী উদ্যোগে স্থানীয়ভাবে তৈরি এই কফি ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং সম্ভাবনাময় একটি মূল্য সংযোজনমূলক পণ্য হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।

উদ্যোক্তা হাওলাদার মোহাম্মদ আলী জানান, ইউটিউবে খেজুরের বীজ দিয়ে কফি তৈরির একটি ভিডিও দেখেই তার মাথায় এ ধারণার জন্ম হয়। পরে নিজ উদ্যোগে পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদন শুরু করেন। তার দাবি, বাগেরহাট জেলায় তিনিই প্রথম খেজুরের বীজ থেকে কফি তৈরি করছেন।

তিনি বলেন, সৌদি আরবে যদি খেজুরের বীজ দিয়ে কফি তৈরি করা যায়, তাহলে আমরা কেন পারব না-এই চিন্তা থেকেই কাজ শুরু করি।

প্রায় ২৫ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে তিনি ক্ষুদ্র পরিসরে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করেন। বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানে পাঁচজন শ্রমিক কাজ করছেন এবং প্রত্যেকে দৈনিক ৫০০ টাকা করে মজুরি পাচ্ছেন।

কফি তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি জানান, খেজুরের মৌসুমে খেজুরের কাঁদি প্রতি ২০ টাকা দরে কিনে বীজ সংগ্রহ করা হয়। এরপর বীজগুলো পানিতে ভিজিয়ে পরিষ্কার করা হয়। খোসা ছাড়িয়ে রোদে শুকানোর পর বালির সঙ্গে কড়াইয়ে ভেজে নেওয়া হয়। পরে মেশিন বা ব্লেন্ডারে গুঁড়া করে প্রস্তুত করা হয় কফি। পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হয় না।

হাওলাদার মোহাম্মদ আলীর ভাষ্য, এ পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার টাকার কফি বিক্রি হয়েছে এবং স্থানীয় বাজারে এর চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। প্রতিদিনই অনেক ক্রেতা তার কাছে এই কফি কিনতে আসছেন। ভবিষ্যতে অনলাইনভিত্তিক বিপণনের মাধ্যমে দেশ-বিদেশে পণ্যটি পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

স্থানীয় বাসিন্দা মোল্লা আজম শেখ বলেন, প্রথমে বিষয়টি শুনে অবাক হয়েছিলাম। পরে কফি পান করে দেখেছি। এর স্বাদ ও ঘ্রাণ বেশ ভালো। এলাকার মানুষও আগ্রহ নিয়ে কিনছেন। এটি বাগেরহাটের জন্য একটি নতুন উদ্যোগ।

নিয়মিত এই কফি পান করেন কাসেম আলী নামের এক বৃদ্ধ। তিনি জানান, কফিটি তার ভালো লাগছে এবং ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে কিছুটা উপকার পেয়েছেন বলে মনে করছেন। তবে এ বিষয়ে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ তিনি উপস্থাপন করেননি।

উৎপাদন কাজে নিয়োজিত শ্রমিক মামুন শেখ বলেন, খেজুরের মৌসুমে এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করে আয় করতে পারছেন। বীজ সংগ্রহ, পরিষ্কার, শুকানো ও ভাজার মতো বিভিন্ন কাজে স্থানীয় কয়েকজন মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, সাধারণত খেজুরের বীজ ফেলে দেওয়া হয়। সেই বীজ ব্যবহার করে মূল্য সংযোজনমূলক পণ্য তৈরি করা একটি ইতিবাচক ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ। এটি স্থানীয় সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে খেজুর বীজের কফির স্বাস্থ্যগত উপকারিতা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও পরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।



banner close
banner close