গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নে বিশ্বের সর্ববৃহৎ রামমূর্তি স্থাপনের একটি বেসরকারি প্রকল্প ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিতর্কিত ভূমি দখল, উদ্যোক্তার রহস্যময় পরিচয় এবং বিশাল বাজেটের উৎস নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হওয়ায় বর্তমানে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ স্থগিত রাখা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, হোসেনপুর ইউনিয়নে শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির নির্মাণের পাশাপাশি বিশ্বের সবচাইতে বড় রামমূর্তি স্থাপনের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়। এই প্রকল্পের প্রধান উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরণী। স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্যমতে, তরণী একসময় সাধারণ জীবনযাপন করলেও প্রতারণার দায়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছিলেন। দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকার পর সম্প্রতি তিনি বিপুল পরিমাণ সম্পদ ও প্রভাব নিয়ে এলাকায় ফিরে আসেন এবং এই বিশাল প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন।
এই নির্মাণ কাজকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, মন্দির ও মূর্তি নির্মাণের নাম করে সাধারণ মানুষের জমি জোর-জবরদস্তি ও হুমকি-ধমকি দিয়ে দখল করা হয়েছে। এছাড়া উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরণীর বিরুদ্ধে স্থানীয়দের গালিগালাজ করা, প্রশাসনকে ভুল বুঝিয়ে সাধারণ মানুষকে জঙ্গি হিসেবে চিহ্নিত করা এবং প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে ভীতি সঞ্চারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভারতের মতো বিশাল হিন্দুপ্রধান দেশ ও পর্যাপ্ত ভূমি থাকা সত্ত্বেও কেন বাংলাদেশের একটি গ্রামীণ জনপদে এ ধরনের বৃহৎ স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা করা হলো, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
প্রকল্পের অর্থায়নের বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। বহু কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের অর্থের সুনির্দিষ্ট উৎস সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনো বৈধ নথিপত্র পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এই প্রকল্পের নেপথ্যে প্রতিবেশী দেশের কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য বা সাম্প্রদায়িক শান্তি বিনষ্টের পরিকল্পনা থাকতে পারে।
পলাশবাড়ী উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকল্পের নির্মাণ কাজের অনুমোদন, ভূমির বৈধতা এবং অর্থায়নের উৎস যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা এবং জনমনে তৈরি হওয়া উদ্বেগ নিরসনে আপাতত নির্মাণ কাজ স্থগিতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসন এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ থেকে বিরত রয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
আরও পড়ুন:








