ঢাকার ধামরাইয়ে জুলাই আন্দোলনে শহীদ সাদ হত্যা মামলায় দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদনে আওয়ামীলীগ নেতাদের বাদ দেওয়ায় চার্জশিট প্রত্যাখ্যান করে সংবাদ সম্মেলন করে পুনঃতদন্তের দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
বৃহস্পতিবার (১৮জুন) সকালে উপজেলা চত্তরে সংবাদ সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আসাদুল ইসলাম (মুকুল) অভিযোগ করেন, মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের পরিবর্তে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন আসামিকে দায়মুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি বলেন, চার্জশিট থেকে আহাম্মদ আল জামান, খালেদ মাসুদ খান লাল্টু চেয়ারম্যান, আওলাদ চেয়ারম্যানসহ আওয়ামী লীগের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা ভুক্তভোগী পরিবার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
তিনি দাবি করেন, মামলার বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত, সাক্ষ্য ও ঘটনার প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত হওয়া উচিত ছিল। এ সময় তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোন স্বার্থে এবং কার নির্দেশে গুরুত্বপূর্ণ আসামিদের নাম চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান তদন্ত প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে বর্তমান ওসি, তদন্ত কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সার্কেল এসপির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। বক্তারা বলেন, তাদের অধীনে নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।
এ সময় পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো— বর্তমান ওসি, তদন্ত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সার্কেল এসপিকে মামলার দায়িত্ব থেকে অপসারণ, নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের সংস্থার মাধ্যমে পুনঃতদন্ত, বাদ পড়া আসামিদের পুনরায় তদন্তের আওতায় আনা, রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপমুক্ত তদন্ত নিশ্চিত করা এবং প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল।
আসাদুল ইসলাম (মুকুল) আরোও বলেন, শহীদ সাদের পরিবার ও ধামরাইবাসী কোনো প্রহসনের বিচার মেনে নেবে না। আমরা প্রতিহিংসা বা মিথ্যা মামলা চাই না, তবে প্রকৃত অপরাধীদের রক্ষার কোনো অপচেষ্টাও মেনে নেওয়া হবে না।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বিতর্কিত তদন্ত প্রতিবেদন পুনর্বিবেচনা করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
আরও পড়ুন:








