বুধবার

১৭ জুন, ২০২৬ ৩ আষাঢ়, ১৪৩৩

মালয়েশিয়ায় শ্রমিক সুরক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭ জুন, ২০২৬ ২১:৫৭

শেয়ার

মালয়েশিয়ায় শ্রমিক সুরক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি
ছবি বাংলা এডিশন

আজ বুধবার (১৭ জুন) সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধনের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছে মাইগ্রেন্ট ওয়েলফেয়ার নেটওয়ার্ক (এমডব্লিউএন)। মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন রাষ্ট্রীয় সফরের প্রাক্কালে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া অভিবাসন করিডোরে রিক্রুটমেন্ট সিন্ডিকেট বন্ধ এবং কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি খোলা চিঠি জমা দেয় সংগঠনটি।

এমডব্লিউএনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিশ্বের ১৪টি উৎস দেশের মধ্যে কেবল বাংলাদেশের ক্ষেত্রেই একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের প্রথা চালু রয়েছে, যা দুর্নীতি ও শোষণের মূল কারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সংগঠনটির দাবি অনুযায়ী, সরকার নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয় প্রায় ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা হলেও কর্মীদের কাছ থেকে প্রকৃতপক্ষে আদায় করা হচ্ছে প্রায় ৬ লাখ টাকা, যার ফলে কর্মীরা চরম ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন।

খোলা চিঠিতে আরও বলা হয়, মালয়েশিয়ায় কর্মক্ষেত্রে পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া, মজুরি না দেওয়া, অতিরিক্ত পরিশ্রম করানো এবং ভুয়া চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নিয়োগের পর বৈধ কর্মীদের বিনা দোষে অবৈধ হয়ে পড়ার ঘটনা ঘটছে। এ বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর (ইউএন ওএইচসিএইচআর), আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এই করিডোরে জোরপূর্বক শ্রম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে।

মানববন্ধনে ছয় দফা দাবি উপস্থাপন করে এমডব্লিউএন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সিন্ডিকেট ও দালালমুক্ত সম্পূর্ণ শূন্য-ব্যয়ে কর্মী নিয়োগ নিশ্চিত করা, প্রতারণা ও মজুরি চুরির শিকার কর্মীদের বকেয়া বেতন ও ক্ষতিপূরণ পরিশোধের ব্যবস্থা করা, চাকরিহারা কর্মীদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা, পাসপোর্ট জব্দ ও জোরপূর্বক শ্রম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া, মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের সেবার মান ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি করা, এবং প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সরকারের সমন্বয়ে একটি স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

সংগঠনটি জানিয়েছে, সিন্ডিকেট ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া না হলে এই অভিবাসন করিডোরে কোনো সংস্কারই টেকসই হবে না, কারণ এটিই দুর্নীতি ও কর্মী শোষণের মূল উৎস।



banner close
banner close