বুধবার

১৭ জুন, ২০২৬ ৩ আষাঢ়, ১৪৩৩

সিলেটে স্কুলছাত্র মাহাদির মৃত্যু ঘিরে রহস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭ জুন, ২০২৬ ২০:৫৬

শেয়ার

সিলেটে স্কুলছাত্র মাহাদির মৃত্যু ঘিরে রহস্য
ছবি সংগৃহীত

সিলেট সেনানিবাস এলাকা সংলগ্ন বিদবাজারের নিজ কক্ষ থেকে গত মঙ্গলবার সিলেট ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণীর ছাত্র আনজুম আহমদ মাহাদির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ১৫ বছর বয়সী এই কিশোরের মৃত্যুকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনদের মধ্যে গভীর রহস্য ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘর থেকে ইংরেজিতে লেখা একটি চিরকুট উদ্ধার করা হলেও মাহাদির পরিবারের একাংশ বিষয়টিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধারকৃত চিরকুটে ময়নাতদন্ত না করা এবং মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে দশম শ্রেণীর একজন শিক্ষার্থীর পক্ষে মৃত্যুপূর্ব মুহূর্তে এমন আবেগহীন ও আইনি ভাষার প্রয়োগ স্বাভাবিক কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চার বছর আগে ২০২২ সালে মাহাদির বাবা ব্যবসায়ী মিসবাহ উদ্দিনের রহস্যজনক মৃত্যু এই ঘটনার প্রেক্ষাপটকে আরও জটিল করে তুলেছে। তৎকালীন সময়ে মিসবাহ উদ্দিন নিখোঁজ হওয়ার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ হার্ট অ্যাটাক উল্লেখ করা হলেও স্বজনদের অভিযোগ ছিল তাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে।

মিসবাহ উদ্দিনের মৃত্যুর আগে রেকর্ড করা কিছু কথোপকথনে তিনি তার স্ত্রী ডা. রুলী বেগমের বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেইল, পরকীয়া ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ করেছিলেন। মাহাদির দাদার ভাষ্যমতে, তার ছেলেকে অপহরণ করে সর্বস্ব লুট করা হয়েছিল এবং সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছিল। বর্তমানে মাহাদির মৃত্যুর ক্ষেত্রেও তার মা এবং সৎ বাবা রিজভী আহমদ চৌধুরীর ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়রা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে মাহাদির মৃত্যুর পরদিন গভীর রাতে বাসা থেকে প্রয়োজনীয় মালামাল সরিয়ে নেওয়ার একটি ভিডিও ফুটেজ জনমনে সংশয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

অন্যদিকে মাহাদির মা ডা. রুলী বেগম দাবি করেছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে মাহাদি এই পথ বেছে নিয়েছে। এছাড়া এক মাস আগে জনৈক প্রতিবেশী বাসায় এসে হুমকি দিয়েছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেশী এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন যে, বাসা নিয়ে আগের বিরোধগুলো অনেক আগেই সামাজিকভাবে মীমাংসা হয়েছে এবং বর্তমানে কোনো বিবাদ ছিল না।

ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করে স্থানীয়রা আত্মহত্যার স্থান ও উপকরণের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সাধারণ জানালার পর্দার স্ট্যান্ডের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা এবং ব্যবহৃত রশির বিশেষ ধরন ফরেনসিক পরীক্ষার দাবি রাখে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এছাড়া কক্ষের ভেন্টিলেটর দিয়ে ভেতরকার দৃশ্য দেখতে না পারার দাবিটিও পারিপার্শ্বিক অবস্থার সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

সিলেট বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুর রহমান জানিয়েছেন, পুলিশ পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। মাহাদির মরদেহের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং উদ্ধারকৃত চিরকুটের হাতের লেখা বিশেষজ্ঞ দ্বারা পরীক্ষা করার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে পুলিশ সব পক্ষের অভিযোগ ও প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে দেখছে।



banner close
banner close