বুধবার

১৭ জুন, ২০২৬ ৩ আষাঢ়, ১৪৩৩

চট্টগ্রামে শিশু আয়াত হত্যায়: আবিরের মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭ জুন, ২০২৬ ১৪:০৪

আপডেট: ১৭ জুন, ২০২৬ ১৪:০৬

শেয়ার

চট্টগ্রামে শিশু আয়াত হত্যায়: আবিরের মৃত্যুদণ্ড
ছবি সংগৃহীত

চট্টগ্রামে পাঁচ বছরের শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে হত্যা ও মরদেহ ছয় টুকরো করার মামলায় আসামি মো. আবিরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আবির আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আদালত আসামিকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড করেছেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, সুরতহাল রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট, উদ্ধার হওয়া আলামত এবং সাক্ষীদের জবানবন্দি পর্যালোচনা করে আদালত আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে মর্মে রায় দিয়েছেন। তিনি আরও জানান, আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে সংঘটিত এই নৃশংস ও নির্মম হত্যাকাণ্ড সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এবং এটি ক্রাইম পেট্রোল অনুষ্ঠান থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে সংঘটিত হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি জালাল উদ্দিন জানান, মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় মোট ৩৩ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানার বন্দরটিলা এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানার মেয়ে আলিনা ইসলাম আয়াত ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় ইপিজেড থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এ ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে।

তদন্তে উঠে আসে, ভুক্তভোগী পরিবারের বাসার ভাড়াটে মো. আবির আয়াতকে অপহরণ ও হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। একই বছরের ২৫ নভেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।

পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে আয়াতকে অপহরণ করা হয়েছিল। পরে পরিকল্পনা ব্যর্থ হলে তাকে হত্যা করা হয় এবং খণ্ডিত মরদেহ সাগরপাড় ও খালের পাশে ফেলে দেওয়া হয়।

তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর পিবিআইয়ের তৎকালীন পরিদর্শক মনোজ দে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগপত্রে মো. আবিরের সঙ্গে তার ১৭ বছর বয়সী এক বন্ধুকেও আসামি করা হয়। বয়স কম হওয়ায় তার মামলা আলাদাভাবে শিশু আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।



banner close
banner close