সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের দুই নেতাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বহিষ্কৃত এক নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে টঙ্গী পশ্চিম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার রাতে গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. বোরহান উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে গাজীপুর মহানগরীর ৫১ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাতুল শিকদার অমি এবং ৪১ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. কাউছার আহমেদকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি মো. রোহানুজ্জামান শুক্কুর ও সাধারণ সম্পাদক মো. মাহমুদুল হাসান মিরন। একই সঙ্গে সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বহিষ্কৃতদের সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রোহানুজ্জামান শুক্কুর বলেন, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের কারণে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এদিকে সম্প্রতি ৫১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদল সভাপতি রাতুল শিকদার অমির একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, ওই অডিওতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতার সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করতে শোনা যায়।
এছাড়া রাতুল শিকদার অমির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় শ্রমিক ফেডারেশন নেতা মো. মাজহারুল ইসলামের কাছে চাঁদা দাবি করার অভিযোগও উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে একাধিকবার ফোনে হুমকি ও চাপ প্রয়োগ করা হয়।
মাজহারুল ইসলামের দাবি, বিষয়টি তিনি স্থানীয় ছাত্রনেতা সুমন লস্করকে অবহিত করলে পরবর্তীতে একটি ফোনালাপ প্রকাশ্যে আসে। ওই ফোনালাপেই বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্যের বিষয়টি সামনে আসে বলে তিনি জানান।
ঘটনার পর রোববার বিকেলে মো. মাজহারুল ইসলাম বাদী হয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে রাতুল শিকদার অমিসহ ৫ থেকে ৬ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়, বিভিন্ন সময় তার কাছ থেকে চাঁদা আদায় করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে পুনরায় চাঁদা দাবি করা হয়।
এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন:







