মঙ্গলবার

১৬ জুন, ২০২৬ ২ আষাঢ়, ১৪৩৩

পদ্মা সেতুর পিলারের নিচের মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে কারা?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ জুন, ২০২৬ ১১:৩৫

শেয়ার

পদ্মা সেতুর পিলারের নিচের মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে কারা?
ছবি সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আলীগঞ্জে পদ্মা রেলসেতুর পিলারের নিচ ও পাশ থেকে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কাটার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচনার মুখে বর্তমানে মাটি কাটার কাজ বন্ধ রয়েছে বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, আলীগঞ্জে পদ্মা রেলসেতুর ৮৫, ৮৬ ও ৮৭ নম্বর পিলারের আশপাশ থেকে মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। এতে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে পানি জমেছে।

স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ উঠেছে, কুতুবপুর ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার আবুবক্কর ও তার অনুসারীরা সেতুর পিলারের গোড়া থেকে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করছেন। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে কুতুবপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার আবুবক্কর বলেন, তিনি সেখান থেকে মাটি কাটেননি। তার দাবি, ফতুল্লার সাগর, ছিদ্দিক ও তাদের লোকজন নতুন করে মাটি কাটছেন। তিনি আরও জানান, প্রায় দুই বছর আগে চীনের একটি কোম্পানির টেন্ডারে ঢাকার একজন ব্যক্তি কাজ পেলে সেই কাজে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু এলাকাবাসীর বাধায় তা বন্ধ হয়ে যায়।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন জানান, তার দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, মাটি কাটার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও বাংলাদেশ আর্মির ইঞ্জিনিয়ারিং কোর জেলা প্রশাসকের সাথে বৈঠক করেছে। তবে সেই বৈঠকের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে পারেননি তিনি।

ফতুল্লার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান নূর জানান, রেলওয়ে প্রকল্পের আওতায় এই কাজ হয়েছে। প্রথমে তারা গিয়ে মাটি কাটা বন্ধ রেখেছিলেন, পরবর্তীতে বিষয়টি জেলা প্রশাসকের পর্যায়ে আলোচিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রেলওয়ে ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা শিমুল কুমার সাহা জানান, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই মাটি কাটার কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে তার জানা নেই।

এদিকে পদ্মা রেলিং প্রজেক্টের ব্রিজ অ্যান্ড ভায়াডাক্ট ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল করিম দাবি করেন, অনুমতি নিয়েই মাটি কাটা হয়েছে। তিনি জানান, পিলার নম্বর ৭৬ থেকে ৯০ পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিটার দীর্ঘ এলাকাটি আগে জলাশয় ছিল। চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির ঠিকাদার মাটি ও বালু দিয়ে এলাকাটি ভরাট করে ভায়াডাক্ট নির্মাণ শেষ করেছিল। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার অংশ হিসেবে প্রকল্পের পরিবেশবান্ধব নির্দেশিকা অনুযায়ী সেই জলাশয় পুনরুদ্ধারের কাজ চলছিল। তার মতে, স্ট্রাকচারাল ডিজাইন অনুযায়ী গভীরে পাইল ও পাইল ক্যাপের ওপর অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে বলে এই মাটি কাটায় পিলারের কোনো ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচার বলে উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।



banner close
banner close