বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া ও লাহিড়ীপাড়া ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারভুক্ত খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষি ব্যবস্থাকে গতিশীল করার লক্ষ্যে গৃহীত প্রায় এক কোটি ২৩ লাখ টাকার এই প্রকল্পে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কাজ না হওয়ায় স্থানীয় সুবিধাভোগীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মৃতপ্রায় খাল পুনরুদ্ধার, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে চার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ হাতে নেয় সরকার। প্রকল্পের প্রাক্কলন অনুযায়ী খালের যথাযথ গভীরতা ও প্রশস্ততা নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ এবং খালের পাড়ে ব্যাপক বৃক্ষরোপণের কথা ছিল। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, অধিকাংশ স্থানে খালের পরিবর্তে সরু নালা তৈরি করে কাজ শেষ দেখানো হয়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রকল্পের আওতায় যে পরিমাণ বৃক্ষরোপণের কথা ছিল, বাস্তবে তার খুব সামান্য অংশ রোপণ করা হয়েছে। রোপণকৃত চারার অধিকাংশেরই বর্তমানে কোনো অস্তিত্ব নেই। এছাড়া খালের পাড়ে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের কাজও অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। অন্যদিকে, খনন কাজের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অনেকেই এখন পর্যন্ত ফসলের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।
এ বিষয়ে এরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান আতিক জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তাদের জন্য কোনো ক্ষতিপূরণের বরাদ্দ রাখা হয়নি।
বগুড়া জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. মোতাহার হোসেন প্রকল্পের অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রকল্পের যতটুকু কাজ সম্পন্ন হয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী শুধুমাত্র ততটুকুই ব্যয় নির্বাহ করা হবে।
বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান জানান, প্রকল্পের অনিয়ম বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধিমাতাবেক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জনস্বার্থ ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর তদন্ত ও জবাবদিহিতার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
আরও পড়ুন:






