হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার আদিত্যপুর ও আব্দাফৌজদা গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষে সেলু মিয়া নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং গুরুতর আহত এক নারীকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আদিত্যপুর গ্রামের আক্তার মিয়া ও আব্দাফৌজদা গ্রামের সারু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে যাতায়াতের রাস্তা ও জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।
রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও সন্ধ্যার পর বাহুবল উপজেলার ডুবাঐ বাজার এলাকায় পুনরায় সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় গুরুতর আহত সেলু মিয়াকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সেলু মিয়া আদিত্যপুর গ্রামের বাসিন্দা।
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম প্রাথমিক সংঘর্ষের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে পরবর্তীতে সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
আরও পড়ুন:






