রবিবার

১৪ জুন, ২০২৬ ৩১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

পলাশবাড়ীতে বিশাল মূর্তি নির্মাণে ভারতীয় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১৪ জুন, ২০২৬ ০৮:০০

আপডেট: ১৪ জুন, ২০২৬ ১০:০৪

শেয়ার

পলাশবাড়ীতে বিশাল মূর্তি নির্মাণে ভারতীয় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ ও কালীমন্দির প্রাঙ্গণে একের পর এক বিশাল আকৃতির ধর্মীয় মূর্তি নির্মাণকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক উদ্বেগ ও গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারের কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে রামমূর্তি নির্মাণকাজ চলতে থাকলে স্থানীয় প্রশাসন গত ১১ জুন তা আপাতত স্থগিত করে দেয়।

মন্দির কমপ্লেক্সে ইতোমধ্যে ২৮ ফুট উচ্চতার একটি শিবমূর্তি ও ৫৩ ফুট উচ্চতার একটি কৃষ্ণমূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় মোট ১৪৪টি মূর্তি নির্মাণের একটি বৃহৎ পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছিল বলে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এ কর্মযজ্ঞের মূল উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরণী। বগুড়ার শিবগঞ্জের বাসিন্দা হরিদাস ১৯৯১ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াকালেই ভারতে চলে যান। পরবর্তী সময়ে দেশে ফিরে তিনি এসি মেরামতের পেশায় যোগ দেন এবং গণভবনের পাশের একটি দোকানে কাজ নেন।

গোয়েন্দা সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, এসি মেরামতের সুবাদে গণভবনে তার অবাধ যাতায়াত ছিল। ওই সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর বোন শেখ রেহানার সঙ্গে তার পরিচয় হয় বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। হরিদাস অবশ্য শেখ রেহানার সঙ্গে কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেছেন। তবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর ফুপাতো ভাই শেখ সেলিমের সঙ্গে ব্যবসায়িক লেনদেন ও পরবর্তীকালে তাদের মধ্যে বিরোধের বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন।

২০২২ সালে র‌্যাব হরিদাসকে গ্রেপ্তার করে। তদন্তে উঠে আসে, ২০১৪ সাল থেকে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় তার মালিকানাধীন প্যারিস রিসোর্ট প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আপত্তিকর মুহূর্ত ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করার কাজে ব্যবহৃত হতো বলে গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে। এ ছাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সবজি সাপ্লাইয়ের মাধ্যমে পাঁচ কোটি টাকা আয়ের দাবি করলেও সে-সংক্রান্ত কোনো দলিল বা আয়কর নথি তিনি দেখাতে পারেননি।

হরিদাসের তিন আপন ভাই-গোবিন্দ, গৌরাঙ্গ ও আনন্দ চন্দ্র দাস-দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বসবাস করছেন। এ ছাড়া নির্মিত মূর্তিগুলোর একটির উদ্বোধন করেছিলেন রাজশাহীতে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমার। মন্দির প্রাঙ্গণে ভারতীয় কর্মকর্তাদের নিয়মিত যাতায়াত এবং হরিদাসের ভারত-সংশ্লিষ্ট পটভূমি মিলিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সরকারের উচ্চমহলে বিভিন্ন জেলায় ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মকাণ্ডের পরিধি সীমিত করার সুপারিশ করেছে।

গত ৯ জুন রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে এ বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি মন্ত্রিপরিষদকে অবহিত করা হয়েছে। এরপর ১১ জুন গাইবান্ধায় অংশীজনদের নিয়ে আরেকটি বৈঠক হয়। গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ আল রাজীব জানান, বৈঠকে স্থানীয় সংসদ সদস্যের ভার্চুয়াল উপস্থিতি ছিল এবং সর্বসম্মতিক্রমে এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম এবং গাইবান্ধার পুলিশ সুপার জসিম উদ্দীনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানা গেছে। হরিদাসের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে তদন্ত শুরুর প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও জোরালো আলোচনা চলছে।



banner close
banner close