শনিবার

১৩ জুন, ২০২৬ ৩০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

হবিগঞ্জে পাহাড়ি ঢলে পানিবন্দি তিন গ্রাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩ জুন, ২০২৬ ২০:০৪

শেয়ার

হবিগঞ্জে পাহাড়ি ঢলে পানিবন্দি তিন গ্রাম
ছবি সংগৃহীত

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের ভান্ডারুয়া, জামালপুর ও এক্তিয়ারপুর গ্রাম আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়ে শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) রাত থেকে শুরু হওয়া ঢলে রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি তলিয়ে গিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে রাতারাতি পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। তিন গ্রামের বিভিন্ন সড়ক ও নিম্নাঞ্চল পানিতে ডুবে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার ঘরবন্দি অবস্থায় রয়েছে এবং নিরাপদ স্থানে সরতে পারছে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাহাড়ি ঢলের পানিতে কয়েকশ একর আউশ ধান, মৌসুমি শাক-সবজি ও গবাদিপশুর খাদ্য নষ্ট হয়েছে। এছাড়া বেশ কয়েকটি কাঁচা ও মাটির তৈরি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কোথাও কোথাও ভূমিধসের ঘটনাও ঘটেছে।

এক্তিয়ারপুর গ্রামের কৃষক সুন্দর আলী বলেন, তার বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে এবং রাস্তায় হাঁটুর ওপরে পানি জমে রয়েছে। এতে চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি তারসহ এলাকার অনেক কৃষকের ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

জামালপুর গ্রামের বাসিন্দা হুমায়ূন কবীর বলেন, আকস্মিক এই বন্যায় পুরো গ্রাম পানিতে ডুবে গেছে। বাসিন্দারা ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন এবং গবাদিপশু ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করে স্থানীয় সংসদ সদস্য এস এম ফয়সলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত এলাকায় ত্রাণ সহায়তা প্রদানের দাবি জানান।

শনিবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন শাহজাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. পারভেজ চৌধুরী। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় দ্রুত সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ত্রাণ বা উদ্ধার কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান বলেন, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে কিছু এলাকায় বাড়িঘরে পানি উঠেছে। প্রশাসন ইতোমধ্যে পরিস্থিতির খোঁজখবর নিয়েছে এবং উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, কোনো পরিবার মানবিক সহায়তার প্রয়োজন হলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। বর্তমানে ওই এলাকাগুলোতে ধীরে ধীরে পানি কমতে শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।



banner close
banner close