বুধবার

১০ জুন, ২০২৬ ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

পুলিশের কাছে আশ্রয় নিলেন ‘এসআই সন্তোষকে পুড়িয়ে দিয়েছি’ বলা সেই মাহাদী

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১০ জুন, ২০২৬ ১৯:৩৫

শেয়ার

পুলিশের কাছে আশ্রয় নিলেন ‘এসআই সন্তোষকে পুড়িয়ে দিয়েছি’ বলা সেই মাহাদী
ছবি: সংগৃহীত

‘বানিয়াচং থানা জ্বালিয়েছি, এসআই সন্তোষকে পুড়িয়েছি’— চলতি বছরের শুরুতে থানার ভেতরে বসে এমন বক্তব্য দিয়ে দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মাহাদী হাসান। পাঁচ মাসের ব্যবধানে সেই মাহাদীই এবার নিজের নিরাপত্তার জন্য পুলিশের কাছেই আশ্রয় নিয়েছেন।

বুধবার দুপুরে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে মাহাদী হাসান অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তার ওপর হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে ধাওয়া করেছেন। এ সময় তাকে আতঙ্কিত অবস্থায় আরেকজনকে সঙ্গে নিয়ে রিকশাযোগে হবিগঞ্জ সদর থানার দিকে যেতে দেখা যায়। লাইভের শেষ পর্যায়ে তিনি থানার ভেতরে প্রবেশ করে পুলিশের কাছে নিরাপত্তা চান।

ফেসবুক লাইভে মাহাদী বলেন, 'ছাত্রদল আমার ওপর অ্যাটাক করতে আসতেছে। আমার কি ব্যক্তিগত কোনো মতামত দেয়ার অধিকার নাই? ছাত্রদলের লোকজন আমার পেছনে ধাওয়া দিচ্ছে। আমার কি পারসোনাল অধিকার নাই?'

তিনি আরও বলেন, 'আমি এখন থানায় আছি। ডিউটি অফিসারের রুমে আছি। আমার একটি ড্রাইভিং পরীক্ষার তারিখ ছিল। আগে থেকেই আমি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছিলাম। এরপরও পরীক্ষা দিতে এসেছিলাম। কিন্তু আসার সময় রিকশায় থাকা অবস্থায় আমাকে হামলার উদ্দেশ্যে ধাওয়া দেয়া হয়।'

মাহাদীর দাবি, বিষয়টি তিনি আগেই সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছিলেন এবং নিরাপদে পরীক্ষা দিতে পারবেন বলে আশ্বস্তও করা হয়েছিল। তবে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।

জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহাদী হাসান চলতি বছরের ২ জানুয়ারি শায়েস্তাগঞ্জ থানায় গিয়ে আলোচনায় আসেন। এক যুবককে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে থানায় গিয়ে তিনি ওসির কক্ষে প্রবেশ করেন এবং সেখানে নিজেকে জুলাই আন্দোলনের কর্মী পরিচয় দিয়ে নানা বক্তব্য দেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে মাহাদীকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা জুলাই আন্দোলনকারীরা সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছি। আপনি প্রশাসনের লোক হয়ে আমাদের ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছেন। হবিগঞ্জে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন হয়েছিল, এখানে ১০ জন নিহত হয়েছেন। বানিয়াচং থানা আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে আমরা আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম। আমাদের এতগুলো ছেলে কি এমনি এমনি ভেসে এসেছে?’

ওই বক্তব্য নিয়ে দেশব্যাপী সমালোচনার সৃষ্টি হলে ৩ জানুয়ারি মাহাদী হাসানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ৪ জানুয়ারি আদালত থেকে তিনি জামিনে মুক্তি পান।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের দিন বানিয়াচং থানায় হামলা, অগ্নিসংযোগ ও অস্ত্র লুটের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় থানায় অবরুদ্ধ থাকা পুলিশ সদস্যদের উদ্ধারের সময় উপ-পরিদর্শক (এসআই) সন্তোষ চৌধুরীকে বিক্ষুব্ধ জনতা থানার ভেতর থেকে টেনে বের করে হত্যা করে। পরদিন তার মরদেহ থানার সামনে একটি গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। ওই ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার দাবি করে জানুয়ারিতে দেয়া মাহাদীর বক্তব্য ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।

এদিকে বুধবারের ঘটনার বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা যতদূর জেনেছি, সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করার কারণে মাহাদী হাসানের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরোধ তৈরি হয়েছে। তবে আজকের হামলার অভিযোগসংক্রান্ত ভিডিওতে আমরা ছাত্রদলের কাউকে দেখতে পাইনি এবং তিনি কাউকে সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্তও করতে পারেননি।”

ওসি আরও বলেন, ‘মাহাদী আমাদের কাছে একটি মৌখিক অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। বর্তমানে তিনি থানায় অবস্থান করছেন।’

একসময় পুলিশের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় বক্তব্য দিয়ে আলোচিত হওয়া মাহাদী হাসানের এবার নিরাপত্তার জন্য পুলিশের কাছেই আশ্রয় নেয়ার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।



banner close
banner close