বুধবার

১০ জুন, ২০২৬ ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

কামারখন্দে অগ্নিকাণ্ডে ৭ দোকান পুড়ে ছাই, ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪০ লাখ টাকা

কামারখন্দ সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১০ জুন, ২০২৬ ১৫:৩৭

আপডেট: ১০ জুন, ২০২৬ ১৬:৩২

শেয়ার

কামারখন্দে অগ্নিকাণ্ডে ৭ দোকান পুড়ে ছাই, ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪০ লাখ টাকা
ছবি বাংলা এডিশন

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল পূর্ব বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাতটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।

বুধবার ভোর ৬টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ধারণা, বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে বাজারের ভাতের হোটেল, মিষ্টির দোকান, সেলুন, ইলেকট্রনিকস, মনোহারি ও আসবাবপত্রের দোকানসহ মোট সাতটি প্রতিষ্ঠানে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা হলেন—মাটির আসবাবপত্রের দোকানদার লাল মোহন, সেলুন ব্যবসায়ী রতন দাস, মনোহারি ও বিকাশ ব্যবসায়ী রেজাউল করিম, মিষ্টির দোকানদার চাঁন মিয়া ও শাহজাহান, ভাতের হোটেল ব্যবসায়ী লাল মিয়া এবং ইলেকট্রনিকস ব্যবসায়ী রিপন।

খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। ফায়ার সার্ভিসের প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে দোকানগুলোর অধিকাংশ মালামাল আগুনে পুড়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী লাল মিয়া জানান, তার ভাতের হোটেল ও মিষ্টির দোকান মিলিয়ে প্রায় ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, “ফ্যান, চাল, মিষ্টিসহ দোকানের সবকিছু পুড়ে গেছে। এখন আমরা সরকারের সহযোগিতা চাই।”

ইলেকট্রনিকস ব্যবসায়ী রিপন বলেন, “দোকানে কয়েক লাখ টাকার বৈদ্যুতিক পণ্য ছিল। আগুনে সব শেষ হয়ে গেছে।”

মনোহারি ও বিকাশ ব্যবসায়ী রেজাউল করিম বলেন, “বিকাশের টাকা, কার্ড ও দোকানের মালামাল সব পুড়ে গেছে। আমার প্রায় ৫ থেকে ৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।” তার মতে, সাতটি দোকানে মোট ক্ষতির পরিমাণ ৪০ লাখ টাকারও বেশি।

মাটির আসবাবপত্র ও সেলুন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত লালমোহন বলেন, “আমার প্রায় ৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমরা নিম্নআয়ের মানুষ, এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা খুবই কঠিন।”

কামারখন্দ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, “খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসে প্রয়োজনীয় কাজ করছি। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ পরে জানা যাবে।”

কামারখন্দ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর ফরিদ উদ্দিন বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করি। প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তদন্ত শেষে ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।



banner close
banner close