মঙ্গলবার

২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২ কার্তিক, ১৪৩৩

সর্বশেষ
জামায়াত সেক্রেটারিকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা সফল হবে না: এহসানুল মাহবুব জুবায়ের মুক্তিযোদ্ধা সনদের বিনিময়ে সাঈদীর বিরুদ্ধে স্বাক্ষী দিয়েছেন পশারী; দাবি তার ভাইয়ের সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিমানবন্দরসহ চার স্থানে হামলা; দাবি হুতিদের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানে নতুন বার্তা মোজতবা খামেনির কুষ্টিয়ায় জামায়াতের লংমার্চের সমাপনী সমাবেশের প্রস্তুতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন ত্রিদেশীয় সিরিজে পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে শ্রীলঙ্কা, বাদ ইংল্যান্ড বাড়িতে গুদাম দেখিয়ে সারের ডিলারশিপ পেলেন যুবলীগ নেতা নজরুল আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল নয়, ফ্যাসিস্টদের ক্লাব: জামায়াত আমির

তিন হিন্দু সুইপারের দ্বারা ধর্ষণের শিকার নাটোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা শিশুর মা

নাটোর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৯ জুন, ২০২৬ ১৫:২৮

আপডেট: ৯ জুন, ২০২৬ ২১:৫৫

শেয়ার

তিন হিন্দু সুইপারের দ্বারা ধর্ষণের শিকার নাটোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা শিশুর মা
ছবি সংগৃহীত

নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে অসুস্থ মেয়েকে (২) চিকিৎসা করাতে আসা এক মাকে (১৮) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের তিন আউটসোর্সিং সুইপারের বিরুদ্ধে।

রবিবার (৭ জুন) রাতে সদর হাসপাতালের ৬ষ্ঠ তলায় এ ঘটনা ঘটলে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) ভুক্তভোগী নারীর বাবা বাদী হয়ে সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগে হাসপাতালের তিন আউটসোর্সিং সুইপার অমিত (২৩), অনিল (২৪) এবং প্রাঙ্গণকে (২৩) আসামি করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে নাটোর সদর থানা পুলিশ।

ভুক্তভোগীর পরিবার ও লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নাটোর সদর উপজেলার বাসিন্দা ভুক্তভোগী ওই নারী দুই বছর বয়সী অসুস্থ কন্যাকে গত ৫ জুন নাটোর সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। তার স্বামী পেশায় অটোরিকশাচালক। কাজের জন্য তার স্বামী বাইরে থাকায় ভুক্তভোগী নারী হাসপাতালে মেয়ের দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত রোববার (৭ জুন) রাত ১০টার দিকে আসামি অমিত ওষুধ দেওয়ার কথা বলে তাকে ওয়ার্ড থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর তাকে জোরপূর্বক হাসপাতালের ছয়তলার সিঁড়িঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। এসময় অমিতের অপর দুই সহযোগী অনিল ও প্রাঙ্গণ সেই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ভিডিও করে। পরবর্তীতে সেই ভিডিও দেখিয়ে তারা ভুক্তভোগী নারীকে ব্ল্যাকমেইল করে এবং তাদের সঙ্গেও শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য চাপ ও হুমকি প্রদান করে।

এদিকে শিশু ওয়ার্ডে দীর্ঘক্ষণ মাকে না পেয়ে শিশুটি কান্নাকাটি শুরু করলে বিষয়টি ওয়ার্ডে দায়িত্বরত নার্স ও ওয়ার্ডবয়দের নজরে আসে। তারা ওই নারীর খোঁজ শুরু করেন এবং হাসপাতালের আনসার সদস্যদের সাহায্য চান। পরবর্তীতে আনসার সদস্য আল আমিন ও সালাউদ্দিন হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে ছয়তলার সিঁড়িতে তাদের অবস্থান শনাক্ত করেন। এরপর তারা হাসপাতাল স্টাফদের নিয়ে সেখানে গিয়ে অভিযুক্তদের হাতেনাতে ধরে ফেলেন এবং ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করেন।

ভুক্তভোগীর স্বামী জানান, তিনি পর দিন সকালে হাসপাতালে এসে স্ত্রী ও কন্যাকে ওয়ার্ডে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তিনি পুরো ঘটনা জানতে পারেন।

নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছি। অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে।