বাগেরহাটের শরণখোলায় বিএমডিসি নিবন্ধনবিহীন চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে আলোচিত এমবিবিএস (এম) চিকিৎসক পরিচয়ধারী ডা. মাহামুদুল হাসানকে কেন্দ্র করে চলমান বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। সাংবাদিকদের দায়ের করা একটি মামলায় নিজেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ থেকে মুক্তি পেতে এবং মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন মামলার আসামিপক্ষের সমর্থকরা। এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
রোববার সন্ধ্যা ৬টায় শরণখোলা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করেন উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও মামলার আসামি মামুন গাজী। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা সাংবাদিকদের দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা ডা. মাহামুদুল হাসানকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনগুলোকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।
সম্প্রতি জাতীয় ও আঞ্চলিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে ডা. মাহামুদুল হাসানের চিকিৎসা কার্যক্রম, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) নিবন্ধনসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে বিএমডিসির নিবন্ধন ছাড়া ব্যবস্থাপত্র প্রদান ও চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ তুলে ধরা হয়। সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর একটি পক্ষ সংঘবদ্ধভাবে ডা. মাহামুদুল হাসানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালায়। পাশাপাশি বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
এ ঘটনায় সাংবাদিক সৈকত মণ্ডল বাদী হয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। তার দাবি, মামলাটি কোনো সংবাদ প্রকাশ বা সাংবাদিকতার কারণে নয়; বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানি, অপপ্রচার, বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার এবং সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগে করা হয়েছে। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্তের দায়িত্ব পালন করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
বাদী সাংবাদিক সৈকত মণ্ডল বলেন, “সাংবাদিকতা করার কারণে কারও বিরুদ্ধে মামলা করা হয়নি। যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, মানহানি ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেছেন এবং সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে বাধা সৃষ্টি করেছেন, তাদের বিরুদ্ধেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
অন্যদিকে স্থানীয় সাংবাদিক মহলের অভিযোগ, মামলায় অভিযুক্ত কয়েকজন ব্যক্তি, যার মধ্যে মামুন গাজী, মনিরুজ্জামান সেপাই ও আলিম আল রাজী মুক্তার নাম রয়েছে, তারা মামলার চাপ মোকাবিলা এবং জনমত প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে মানববন্ধনের আয়োজন করেছেন।
এদিকে শরণখোলাজুড়ে ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি ডা. মাহামুদুল হাসানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোও যথাযথভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
আরও পড়ুন:

.jpg)






