ঢাকা-তারাকান্দী মহাসড়কে চলাচলকারী তুষার-তুহিন পরিবহনের বিরুদ্ধে ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে যাত্রী হয়রানি, একই আসনের টিকিট একাধিক যাত্রীর কাছে বিক্রি এবং দায়িত্বহীন আচরণের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, অতিরিক্ত মুনাফার আশায় পরিবহনটি যাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণামূলক আচরণ করছে।
শনিবার (৬ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ও পোস্টে সরিষাবাড়ি উপজেলার পিংনা এলাকার বাসিন্দা শেখ তাওহীদ অভিযোগ করেন, তিনি পরিবারসহ ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার জন্য তিন দিন আগে তুষার-তুহিন পরিবহনের ভোর ৫টা ১০ মিনিটের বাসের দুটি অগ্রিম টিকিট কিনেছিলেন।
কিন্তু নির্ধারিত সময়ে বাসে উঠে তিনি দেখেন, তার টিকিটে উল্লেখ থাকা G-1 ও G-2 নম্বর আসনে আগে থেকেই দুই নারী যাত্রী বসে আছেন। পরে জানা যায়, একই আসনের টিকিট তাদের কাছেও বিক্রি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী শেখ তাওহীদ বলেন, আমি টাকা দিয়ে নির্ধারিত আসনের টিকিট কেটেছি। তারপরও আমাকে সামনে বোনেটে বসতে বলা হয়। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঈদের ভিড়ে এমন হয়রানির শিকার হবো ভাবিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলে বাসের কন্ডাক্টর দায় এড়িয়ে কাউন্টারের ভুল বলে দাবি করেন। নির্ধারিত আসন নিশ্চিত করতে না পেরে তিনি শেষ পর্যন্ত টিকিটের টাকা ফেরত নিয়ে বাস থেকে নেমে যেতে বাধ্য হন। পরে গোপালপুর উপজেলার নলিন বাজার এলাকায় নামিয়ে দেওয়া হলে সিএনজিযোগে ভূঞাপুরে এসে অন্য পরিবহনে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একই আসনের টিকিট একাধিক যাত্রীর কাছে বিক্রি হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় পরিবহন কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা ও যাত্রীসেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবের সময় তুষার-তুহিন পরিবহনের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, অগ্রিম টিকিট নিয়ে অনিয়ম এবং যাত্রী হয়রানির অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। তবে এসব অভিযোগের কার্যকর প্রতিকার না হওয়ায় ভোগান্তি বাড়ছে সাধারণ যাত্রীদের।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একজন অভিযোগ করে বলেন, তুষার-তুহিন বাস এমন কাজ প্রায়ই করে থাকে। এজন্য কাউন্টারকে দায়ি করে এবং ভুল হয়েছে বলে দায় এড়িয়ে যায়।
কবির হোসেন, কাজী বদিউজ্জামান, আল মামুন মিঞাসহ অসংখ্য ব্যাক্তি অভিযোগ করে বলেন,তুষার তুহিন পরিবহন যাত্রীদের সাথে প্রতারনা করে। একই কাজ আমাদের সাথেও হয়েছে।
এ বিষয়ে তুষার-তুহিন পরিবহনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে তাদের হট লাইন নাম্বারে কল দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। পরে তাদের অপর একটি নাম্বারে একাধিকবার কল করলেও তা রিসিভ করেননি।
আরও পড়ুন:








