শনিবার

৬ জুন, ২০২৬ ২৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

যানজট এড়াতে নৌপথে ঢাকামুখী যাত্রীদের ভিড়

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৬ জুন, ২০২৬ ১৫:০৯

শেয়ার

যানজট এড়াতে নৌপথে ঢাকামুখী যাত্রীদের ভিড়
ছবি সংগৃহীত

ঈদ-পরবর্তী সময়ে মহাসড়কে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ ও যানজটের কারণে রাজধানীমুখী যাত্রীদের একটি বড় অংশ বিকল্প হিসেবে নৌপথ বেছে নিচ্ছেন। যমুনা নদী পেরিয়ে সিরাজগঞ্জের চৌহালী হয়ে টাঙ্গাইলের নাগরপুর হয়ে ঢাকায় ফিরছেন শত শত মানুষ।

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চৌহালী উপজেলার এনায়েতপুর নৌঘাটে গিয়ে দেখা যায়, শিশু-কিশোর, নারী ও বৃদ্ধসহ বিপুল সংখ্যক যাত্রী ব্যাগপত্র নিয়ে নৌকায় উঠছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে কিংবা এককভাবেও অনেকে দ্রুত ঢাকায় ফেরার চেষ্টা করছেন।

ঢাকাগামী যাত্রী গোলজার হোসেন জানান, মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট ও ভোগান্তির কারণে তিনি ছেলে ও পুত্রবধূকে নিয়ে নৌপথে চৌহালী পার হয়ে টাঙ্গাইলের নাগরপুর হয়ে ঢাকায় যাচ্ছেন। তিনি বলেন, এক ঘণ্টার বেশি সময়ের এ যাত্রায় জনপ্রতি ভাড়া ১০০ টাকা হলেও অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে নৌপথেও ঝুঁকি রয়েছে।

আরেক যাত্রী আকাশ বলেন, গণমাধ্যমে মহাসড়কের যানজটের খবর দেখে তিনি বিকল্প পথে ধাপে ধাপে ঢাকায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

চৌহালী উপজেলার পশ্চিম কোদালিয়া এলাকার আবুল খায়ের মিয়া বলেন, নৌপথে যাতায়াতে ঝড়-বৃষ্টির ঝুঁকি রয়েছে। পাশাপাশি অধিকাংশ নৌকায় লাইফ জ্যাকেট না থাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই এনায়েতপুর নৌঘাটে যাত্রীর চাপ বাড়তে থাকে। প্রতিটি নৌকায় গড়ে ১২০ থেকে ১৫০ জন যাত্রী পারাপার হচ্ছেন। অধিকাংশ নৌযানে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম, বিশেষ করে লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা নেই।

নৌকার মাঝিরা জানান, ঈদ-পরবর্তী সময়ে যাত্রীর চাপ এখনো স্বাভাবিক হয়নি। মাঝি মো. হৃদয় বলেন, বর্তমানে যাত্রীর সংখ্যা অনেক বেশি এবং ঈদের ভিড় পুরোপুরি কমেনি।

এদিকে যমুনা সেতুর পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কেও যানবাহনের চাপ লক্ষ্য করা গেছে। কোথাও কোথাও ধীরগতিতে যান চলাচল করছে। তবে সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু শনিবার দুপুর ১২টার দিকে জানান, রাতের তুলনায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং যমুনা সেতুর পশ্চিম মহাসড়কের কড্ডার মোড় এলাকায় তখন কোনো যানজট ছিল না।

অন্যদিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে প্রায় ১৭ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার গভীর রাত থেকে যমুনা সেতুর টোল প্লাজা থেকে পৌলী পর্যন্ত এ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে দীর্ঘ সময় আটকে থেকে যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধ যাত্রীরা বেশি দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন।



banner close
banner close