লালমনিরহাট সীমান্তে নারী ও শিশুসহ ৩৩ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় জনতার প্রতিরোধের মুখে শুক্রবার (৫ জুন) রাতে সীমান্তের ফ্লাড লাইট বন্ধ করে শূন্যরেখা থেকে ওই ৩৩ জনকে সরিয়ে নেয় বিএসএফ।
সীমান্ত সূত্র জানায়, শুক্রবার ভোরে লালমনিরহাটের তিনটি উপজেলার পৃথক তিনটি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে এই পুশ ইনের চেষ্টা চালানো হয়। হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা সীমান্তে ১১ জন, পাটগ্রাম উপজেলার পয়ষট্টিবাড়ি সীমান্তে ১০ জন এবং আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর সীমান্তে ১২ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
স্থানীয় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে সতর্কতা জানানো হলে বিজিবি সদস্য ও গ্রামবাসীরা সীমান্তে কঠোর অবস্থান নেন। এতে বিএসএফের চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং ওই ৩৩ জন দীর্ঘ সময় শূন্যরেখায় অবস্থান করতে বাধ্য হন। অনাহার ও রোদ-বৃষ্টির কারণে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়লে সীমান্তের এপাশ থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা কাঁটাতারের ফাঁক দিয়ে তাদের বিস্কুট, পানি ও জরুরি ওষুধ সরবরাহ করেন।
সীমান্তবর্তী বাসিন্দা রহমান মিয়া জানান, সকাল হওয়ার পর দেখা যায় কাঁটাতারের ওপাশে শূন্যরেখায় নারী ও শিশুরা খোলা আকাশের নিচে বসে কাঁদছে। বিএসএফ তাদের ফিরিয়ে নিচ্ছিল না এবং খাবারও দেয়নি। একটি শিশু গরম ও অনাহারে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়রা কয়েকজন মিলে তাদের ওষুধ ও খাবার পৌঁছে দেন।
ফকিরপাড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য লিটন মিয়া জানান, রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে আটকে পড়া লোকজন অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। শুক্রবার রাতে ফ্লাড লাইট বন্ধ করে তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে শনিবার ভোরে আবার পুশ ইনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
লালমনিরহাট ৬১ বিজিবির সহকারী পরিচালক আব্দুল রাজ্জাক মন্ডল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সীমান্তে কড়া নজরদারি ও টহল জোরদার রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন:



.jpg)




