শনিবার

৬ জুন, ২০২৬ ২৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

যমুনা সেতুতে ২৩ ঘণ্টায় ২৪ দুর্ঘটনা, ঢাকামুখী মহাসড়কে চরম ভোগান্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৬ জুন, ২০২৬ ০৭:০৮

শেয়ার

যমুনা সেতুতে ২৩ ঘণ্টায় ২৪ দুর্ঘটনা, ঢাকামুখী মহাসড়কে চরম ভোগান্তি
ছবি সংগৃহীত

ঈদুল আজহার ছুটি শেষে শনিবার থেকে দেশের পোশাক কারখানাগুলো চালু হওয়ায় উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চল থেকে বিপুল সংখ্যক কর্মজীবী মানুষ ঢাকামুখী যাত্রা শুরু করেছেন। ফলে যমুনা সেতু ও ঢাকা-সিরাজগঞ্জ মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে গত ২৩ ঘণ্টায় যমুনা সেতুর ওপর ছোট-বড় মিলিয়ে ২৪টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে সেতুর উভয় প্রান্তে দীর্ঘ যানজট ও ব্যাপক দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ ও সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে শুক্রবার রাত ১১টা পর্যন্ত সময়ে সেতুর ওপর ২৪টি দুর্ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ছয়টি ঘটনায় দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরাতে রেকার ব্যবহার করতে হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণে বিভিন্ন সময়ে সেতুর এক বা উভয় লেন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হওয়ায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

শুক্রবার সকাল থেকেই যমুনা সেতুর পশ্চিম প্রান্তে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। বিকেলের পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও রাত ৯টার দিকে সেতুর ৭ নম্বর পিলারের কাছে দুটি বাসের সংঘর্ষে একজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হন। এ দুর্ঘটনার পর সেতুর পশ্চিম প্রান্তে আবারও প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর ঢাকামুখী লেনে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শুক্রবার রাত ১১টার পর সেতুর পূর্ব প্রান্ত থেকে যানবাহন পারাপার সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে সেতুর সব লেন দিয়ে উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকামুখী যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়।

তিনি বলেন, গত ২৩ ঘণ্টায় সেতুর ওপর ২৪টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমরা আশা করছি, নেওয়া পদক্ষেপের ফলে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে।

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, পশ্চিম টোলপ্লাজা অতিক্রমের পর যানবাহন বিকল হয়ে যাওয়া, একটির সঙ্গে আরেকটির সংঘর্ষ এবং অতিরিক্ত যানবাহনের চাপের কারণে সেতুর ওপর চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। কোনো একটি যানবাহন বিকল হলেই পেছনে দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে, যা যানজট আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এদিকে সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী বাসচালক রুবেল শেখ জানান, শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে যমুনা সেতুর পশ্চিম প্রান্তে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয়েছে। পরে ফেরার পথে রাত ৮টার দিকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা এলাকায় এসে আবারও যানজটে পড়েন। তিনি বলেন, কখন সেতু পার হতে পারব, তা বলতে পারছি না।

সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মহাসড়কের সার্বিক পরিস্থিতি সিসিটিভি ও ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি জেলা পুলিশের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে নিয়মিত ট্রাফিক পরিস্থিতির হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে। যানজটের কারণে সাধারণ যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের দুর্ভোগের জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্বাভাবিক সময়ে এ মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন ১৭ থেকে ১৮ হাজার যানবাহন চলাচল করলেও ঈদের সময় তা ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ এবং ধারাবাহিক দুর্ঘটনার কারণে এবারের ঈদ-পরবর্তী সময়ে যমুনা সেতু এলাকায় যান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।



banner close
banner close