ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে নির্মমভাবে আক্রমণের শিকার সজিব আহমেদ অনাকাঙ্ক্ষিত অপমৃত্যুর ৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া চূড়ান্ত সমাপ্তিতে পৌঁছায়নি। ২০২২ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার দীর্ঘ সময় পরেও সুষ্ঠু বিচার না মেলায় নিহতের পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসীর মাঝে তীব্র ক্ষোভ, হতাশা ও নিরাপত্তা শঙ্কা বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ২০২২ সালের ঈদুল আজহার কিছুদিন পূর্বে দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের ইয়ার নুরুল্লাহপুর ও রতনপুর গ্রামের যুবকদের মধ্যে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছিল। উক্ত ম্যাচকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মাঝে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাতের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় বিষয়টি সামাজিকভাবে সমাধানও করা হয়েছিল।
তবে সামাজিক এই মীমাংসার পরেও বিরোধের জেরে ২০২২ সালের ৯ জুলাই (ঈদুল আজহার আগের দিন) সকালে এক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সজীব ও তৌহিদ নামের দুই যুবক রতনপুর গ্রামে কাজ করতে গেলে সেখানে স্থানীয় ১০-১২ জন যুবক তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর জখম করে।
হামলার শিকার রক্তাক্ত সজীবকে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরবর্তীতে তাঁর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে দীর্ঘ ১৫ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর এবং শেষ পর্যায়ে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় ২৪ জুলাই সজীবের অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানি ঘটে।
হতদরিদ্র ও সাধারণ পরিবারের সন্তান সজীবের চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন ব্যয়বহুল চিকিৎসার কারণে চরম আর্থিক সংকট দেখা দেয়, যার ফলে তাঁর চিকিৎসা প্রক্রিয়া একপর্যায়ে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। তৎকালীন সময়ে সজীবের জীবন বাঁচাতে ইয়ার নুরুল্লাহপুর গ্রামবাসী ও স্থানীয় সচেতন যুবসমাজ স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজেদের মধ্যে চাঁদা তুলে এবং আর্থিক সহায়তা সংগ্রহ করে মানবিক হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। তবে সকলের সম্মিলিত চেষ্টা ও চিকিৎসকদের আন্তরিক চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই তরুণ।
ঘটনার পরপরই সজীবের ভাই বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থা.না.য় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছিলেন, যা সজীবের প্রয়াণের পর আইনি বিধি অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলায় রূপান্তরিত হয়। ঘটনার পর তৎকালীন ফেনী মডেল থানা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে উক্ত মামলার দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছিল।
তবে মামলার বর্তমান পরিস্থিতি ও ধীরগতি নিয়ে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সজীবের ভাই সোহেল। তিনি অত্যন্ত দুঃখের সাথে দাবি করে আলোকপাত করেন: "আমার ভাই সজীবের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিচারের আশায় আমরা দীর্ঘ ৪ বছর ধরে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে দপ্তরে ঘুরেছি। কিন্তু বিভিন্ন সংস্থায় বারবার যোগাযোগ করেও এখন পর্যন্ত আমরা সুনির্দিষ্ট কোনো সমাধান বা আইনি প্রতিকার পাইনি। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, এই ঘটনার সাথে জড়িত অভিযুক্তরা এখনো প্রকাশ্য দিবালোকে এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। অথচ তাদের দমনে বা আমাদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে প্রশাসনে.র পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
বিচারাধীন এই মামলার বিষয়ে স্থানীয় সচেতন সর্বস্তরের নাগরিক ও নিহতের পরিবার প্রশাসনে.র উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে বিনীতি অনুরোধ জানিয়েছেন, যেন দীর্ঘ ৪ বছরের এই আইনি দীর্ঘসূত্রতা ও ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা শঙ্কা দূর করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল বা সংশ্লিষ্ট আদালতের মাধ্যমে মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া গতিশীল করা হয়। একই সাথে এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো অভিযুক্তদের অবস্থান নিশ্চিত করে আইনানুগ সর্বোচ্চ শাস্তির মাধ্যমে এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা ও আইনি সুশাসন বজায় রাখার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:








