বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় এক ব্যবসায়ীর ওপর সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীরা তাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার পাশাপাশি নগদ প্রায় ৩ লাখ টাকা ও মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার উপজেলার চিতলমারী বাজারের বোয়ালিয়া ভ্যানস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত আর এম পোল্ট্রি ফিশমিলে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যবসায়ী রিপন মন্ডল (৩৫) উপজেলার চরকুড়ালতলা গ্রামের মৃত নিখিল চন্দ্র মন্ডলের ছেলে এবং আর এম পোল্ট্রি ফিশমিলের মালিক। তাকে রক্ষা করতে গিয়ে আহত হয়েছেন তার মা চারুলতা মন্ডল (৬০), ভাই নিপুণ মন্ডল (৪০) এবং প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী সৌমেন মজুমদার (২৭)।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল হঠাৎ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে রিপন মন্ডলের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে তাকে দোকান থেকে টেনে বাইরে এনে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। হামলাকারীদের হাতে হাতুড়িসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
আহতদের স্বজনরা জানান, হামলাকারীরা রিপনকে উদ্দেশ করে বলেন, তোর বাপ ফোন দিয়েছিল, ফোন ধরিস না কেন? এ কথা বলেই তারা অতর্কিত হামলা শুরু করে। এতে রিপন গুরুতর আহত হন এবং তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে রিপনের অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। অন্য আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, কয়েকদিন ব্যাংক বন্ধ থাকায় ব্যবসার অর্থ ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য বাড়ি থেকে অতিরিক্ত নগদ টাকা আনা হয়েছিল। এছাড়া বিক্রয়লব্ধ অর্থও দোকানের ক্যাশে রাখা ছিল। হামলাকারীরা রিপনের পকেটে থাকা প্রায় ১ লাখ টাকা, দোকানের ক্যাশে থাকা আনুমানিক ২ লাখ টাকা এবং একটি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার বিষয়টি জেনেছি। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা। #
আরও পড়ুন:








