যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়ায় বুধবার (৩ জুন) দুপুর ২টার দিকে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত গৃহবধূর নাম ছাফিয়া খাতুন রিমু (২০)। শ্বশুরবাড়িতে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গামছা দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়।
নিহত ছাফিয়া খাতুন রিমু বাঁকড়া ইউনিয়নের খোশালনগর গ্রামের আলহাজ শফিকুল ইসলামের মেয়ে। হাজিরবাগ ইউনিয়নের রায়পটন গ্রামের বস্ত্র ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলামের ছেলে রিয়াদ হোসেনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের পর থেকেই শাশুড়ির সঙ্গে রিমুর সম্পর্ক স্বাভাবিক ছিল না। পারিবারিক কলহের জেরে কয়েক মাস আগে তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন এবং তাঁর মুখমণ্ডল বেঁকে যায়। এরপর দীর্ঘদিন তিনি বাবার বাড়িতে অবস্থান করেন। ঘটনার কয়েক দিন আগে তিনি শ্বশুরবাড়িতে ফিরে আসেন।
পারিবারিক সূত্র আরও জানায়, রিমুর বাবা শফিকুল ইসলাম মেয়ের বিয়ের পর জামাই ও বেয়াইকে ব্যবসার উদ্দেশ্যে ৬০ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। রিমুর ডায়াবেটিস থাকার বিষয়টিও পরিবারে অশান্তির অন্যতম কারণ হিসেবে অনেকে উল্লেখ করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন দুপুরে স্বামী রিয়াদ হোসেন বাজার থেকে বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে ডাকাডাকি করলে সাড়া না পেয়ে ঘরে প্রবেশ করেন এবং সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় রিমুকে দেখতে পান। পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে মরদেহ নামিয়ে আনেন।
খবর পেয়ে বাঁকড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ কাজী শহিদুল ইসলাম দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। সহকারী উপপরিদর্শক (এসআই) হাদিউর রহমান মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে প্রেরণ করা হয়। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর বৃহস্পতিবার আসরের নামাজের পর নিহতের জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আরও পড়ুন:








