রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয়েছে। আগামী রবিবার, ৭ জুন, রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেছেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার পর বিচারক এজলাসে উঠলে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে যুক্তিতর্ক শুনানি সম্পন্ন হয়। এর মধ্য দিয়ে মামলার বিচারিক কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এদিন সকাল ৯টার দিকে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাদের ঢাকা দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। মামলাকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এর আগে বুধবার, ৩ জুন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামি পরীক্ষা ও সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। শুনানিতে বিচারক মামলার ১৬ জন সাক্ষীর বক্তব্য, ভিডিও প্রমাণ এবং বিভিন্ন আলামত আসামিদের সামনে উপস্থাপন করেন। এতে রামিসাকে খোঁজার ঘটনা, সন্দেহভাজন ফ্ল্যাট শনাক্তকরণ, রক্তের আলামত উদ্ধার এবং শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের বিষয় উঠে আসে। অভিযোগ অনুযায়ী স্বপ্না আক্তার কীভাবে সোহেল রানাকে পালাতে সহায়তা করেছিলেন, সে বিষয়ও আদালতে উল্লেখ করা হয়।
আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্যে সোহেল রানা প্রথমে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। পরে তিনি অপরাধ স্বীকার করে আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। একপর্যায়ে তিনি ডলার নামে একজনকে গ্রেফতারের দাবি জানান। অপর আসামি স্বপ্না আক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু জানান, সোহেল রানা নিজের দোষ স্বীকার করে আদালতের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের নথিভুক্ত করার জন্য রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন জানিয়েছে। তিনি আরও জানান, সোহেলের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ডলার নামের কোনো উল্লেখ ছিল না এবং তদন্ত ও মামলার নথিতেও এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক ফারুকী জানান, সাক্ষ্য-প্রমাণ, যুক্তিতর্ক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার ভিত্তিতে এটি একটি দৃষ্টান্তমূলক বিচার প্রক্রিয়া হবে।
রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োগপ্রাপ্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্যাহ জানান, বুধবারের কার্যক্রম ছিল ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামি পরীক্ষা, যা ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
মামলায় মোট ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। নিহত শিশুর বাবা-মা, বড় বোন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা আদালতে সাক্ষ্য দেন। শিশু সাক্ষী হওয়ায় রামিসার বড় বোনের সাক্ষ্য ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়। তদন্তকালে জব্দ করা কাটা গ্রিলসহ বিভিন্ন আলামতও আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে পল্লবীর মিরপুর-১১ এলাকার একটি বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন তার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে এবং পরবর্তী সময়ে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়। ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও ফরেনসিক আলামতের ভিত্তিতে তদন্ত শেষে গত ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। মামলায় সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যা এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
আরও পড়ুন:








