রাজধানীর মিরপুরে বৃদ্ধা মায়ের মৃত্যুতে অবহেলার অভিযোগে বড় ছেলে এক যুগ্ম সচিবের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বুধবার মিরপুর-১১ নম্বরের একটি বাসা থেকে নুরজাহান বেগম নামের পঁচাত্তর বছর বয়সী এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এই বিষয়ে জানান, দেশে বিদ্যমান পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে ওই কর্মকর্তার বক্তব্য গ্রহণসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত নুরজাহান বেগমের তিন সন্তানই সমাজে প্রতিষ্ঠিত। তার বড় ছেলে সরকারের যুগ্ম সচিব, মেজো ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক এবং একমাত্র মেয়ে স্থানীয় একটি স্কুলের শিক্ষক। সন্তানদের এমন উচ্চপদস্থ অবস্থানে থাকা সত্ত্বেও মায়ের প্রতি চরম অবহেলার বিষয়টি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পেলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
পল্লবী থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মরদেহ উদ্ধারের সময় মরদেহে পোকার অস্তিত্ব দেখা গেছে এবং নিহতের ডান চোখে সাদা ফাঙ্গাস জাতীয় আবরণে ঢাকা ছিল। উদ্ধারকৃত ফ্ল্যাটটির পরিবেশ অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পাওয়া গেছে। প্রতিবেশী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা ঘরের ভেতরে একজন প্রবীণ নারীর এমন অবস্থায় মৃত্যুকে অমানবিক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন ২০১৩ এবং ২০২৩ সালের বিধিমালা অনুযায়ী, প্রত্যেক সন্তানকে পিতা-মাতার প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা, পরিচর্যা এবং নিয়মিত খোঁজখবর রাখা নিশ্চিত করতে হবে। একাধিক সন্তান থাকলে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এই ভরণপোষণ নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই আইন অমান্য করলে অনূর্ধ্ব এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা অর্থদণ্ড অনাদায়ে অনূর্ধ্ব তিন মাস কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এই আইনি কাঠামোর আওতায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
আরও পড়ুন:








