নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে এক মতবিনিময় সভায় ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানের প্রশ্নে কঠোর হুঁশিয়ারি ব্যক্ত করেছেন। বুধবার দুপুরে সোনাইমুড়ীর নন্দিয়াপাড়া বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে আয়োজিত সভায় তিনি এই বক্তব্য প্রদান করেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করে বাংলাদেশ পরিচালিত হবে এবং এর বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া কোনো ব্যক্তি বা দলকে ছাড় দেওয়া হবে না। যারা মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করার চেষ্টা করবে, প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে আরেকটি গণ-অভ্যুত্থান সংগঠিত করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধকে খাটো করার কোনো সুযোগ নেই এবং যারা এর বিরোধিতা করবে তাদের এ দেশে থাকার অধিকার থাকবে না।
জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে তিনি জানান, বিগত ১৭ বছর একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল মুক্তিযুদ্ধকে ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত করে দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম ও লুটপাট চালিয়েছে। ২০২৪ সালের রক্তাক্ত গণ-অভ্যুত্থান জনগণের অধিকার আদায়ের ফসল। এই আন্দোলনকে যারা নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা করছে, তাদের উদ্দেশ্য সফল হবে না বলে তিনি সতর্ক করেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল গণতন্ত্রে বিশ্বাসী উল্লেখ করে তিনি দ্রুত জনগণের ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানান।
বক্তব্যে ইশরাক হোসেন ১৯৭১ সালের বিরোধিতাকারীদের সমালোচনা করে বলেন, যারা পাক হানাদার বাহিনীকে সহায়তা করেছে, তাদের আস্ফালন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সাম্প্রতিক একটি টকশোতে এক সংসদ সদস্যের পাকিস্তানপন্থি মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমেই বাংলাদেশের মানচিত্র ও পতাকা অর্জিত হয়েছে, যা আমাদের অস্তিত্বের মূল পরিচয়। এই আদর্শিক লড়াইয়ে শহীদ জিয়ার সৈনিকেরা আপস করবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গত ১৭ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান, ইলিয়াস আলীসহ বহু নেতাকর্মীর গুম ও খুনের মধ্য দিয়েই ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট রচিত হয়েছে। এই আন্দোলনে ছাত্রদলের ১৪৮ জন নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের দাসত্ব থেকে মুক্তির লক্ষ্যেই এই বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে।
উক্ত মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং নোয়াখালীর পুলিশ সুপার এ.টি.এম. মোশারেফ হোসেনসহ স্থানীয় প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ। সভায় বক্তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
আরও পড়ুন:








