ভুয়া সোলার প্রকল্প ও অনলাইন বিনিয়োগ অ্যাপসের মাধ্যমে দ্বিগুণ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে শতাধিক মানুষের কাছ থেকে প্রায় ২১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মো. আব্দুল হামিদ (৩৩) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। টাকা ফেরত চাইলে নিজেকে জ্বীনের বাদশা পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাজরান রউফ এসব তথ্য জানান।
গ্রেপ্তার আব্দুল হামিদ উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গা থানার বনবাড়িয়া গ্রামের মৃত আব্দুল করিমের ছেলে। সোমবার রাতে নিজ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, হামিদ প্রথমে ইকো ভোল্ট নামে একটি ভুয়া সোলার প্রকল্পভিত্তিক অ্যাপস চালু করে সাধারণ মানুষকে বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করে। পরে অধিক মুনাফার আশ্বাস দিয়ে সিইএফ নামে আরেকটি অ্যাপসে বিনিয়োগ করতে প্ররোচিত করে। লাভের আশায় বিভিন্ন ব্যক্তি বিকাশ, নগদ ও রকেটের মাধ্যমে তার অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠান।
একপর্যায়ে শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ২১ লাখ টাকা সংগ্রহের পর অ্যাপস দুটি বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যায় সে। বিনিয়োগকারীরা টাকা ফেরতের জন্য চাপ দিলে হামকাইল মোয়াকায়েল নামে একটি টেলিগ্রাম আইডি ব্যবহার করে নিজেকে অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন জ্বীনের বাদশা হিসেবে পরিচয় দেয় এবং টাকা দাবিকারীদের পরিবার ধ্বংস করার হুমকি দিতে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় কালিয়া কান্দাপাড়া গ্রামের মমতাজ বেগম বাদী হয়ে গত ১ জুন সিরাজগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় অভিযান চালিয়ে সোমবার রাতেই হামিদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একটি ডিজিটাল ট্যাব, একটি স্মার্টফোন এবং গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ লিফলেট জব্দ করেছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হামিদ প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ প্রতারণা চক্রের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ সাধারণ মানুষকে অনলাইনভিত্তিক বিনিয়োগ অ্যাপস এবং অস্বাভাবিক মুনাফার প্রলোভনে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
আরও পড়ুন:








