মঙ্গলবার

২ জুন, ২০২৬ ১৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

ঈদ শেষে ঢাকামুখী মানুষের ঢল, বাস সংকটে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:

প্রকাশিত: ২ জুন, ২০২৬ ১৪:৩৩

শেয়ার

ঈদ শেষে ঢাকামুখী মানুষের ঢল, বাস সংকটে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত

ঈদুল আজহার ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার মানুষ। এতে যমুনা সেতু হয়ে ঢাকামুখী যানবাহনের চাপ বেড়েছে কয়েকগুণ। পাশাপাশি বিভিন্ন রুটে বাস সংকটের কারণে যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া।

যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার শেষ ২৪ ঘণ্টায় সেতুর পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে ঢাকামুখী লেনে পারাপার করেছে ২২ হাজার ৯৭১টি যানবাহন। এসব যানবাহন থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ১৮ লাখ ৪২ হাজার ৮৫০ টাকা। একই সময়ে সেতুর পূর্ব প্রান্ত দিয়ে উত্তরবঙ্গমুখী লেনে চলাচল করেছে ১২ হাজার ৪২১টি যানবাহন। এ খাতে টোল আদায় হয়েছে ৮৯ লাখ ৩৯ হাজার ১৫০ টাকা। সব মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতু ব্যবহার করেছে ৩৫ হাজার ৩৯২টি যানবাহন এবং মোট টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৭ লাখ ৮২ হাজার টাকা।

সোমবার (১ জুন) সকালে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কড্ডার মোড় ও হাটিকুমরুল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঢাকাসহ বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার জন্য শত শত যাত্রী বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন। কিন্তু পর্যাপ্ত বাস না থাকায় অনেককেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

ঢাকাগামী যাত্রী মনিরুজ্জামান বলেন, “সকাল থেকে বাসের জন্য দাঁড়িয়ে আছি। সাধারণ সময়ে যে ভাড়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, এখন সেটি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। বেশি ভাড়া দিয়েও ঠিকমতো সিট পাওয়া যাচ্ছে না।”

আরেক যাত্রী আবুল লতিফ জানান, “ময়মনসিংহ যাওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে গেলে ৫০০ টাকা ভাড়া চাচ্ছে। বসে যেতে চাইলে আরও বেশি টাকা দিতে হচ্ছে।”

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ঈদ-পরবর্তী সময়ে ঢাকামুখী যানবাহনের চাপ স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সেতুর উভয় প্রান্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ বিআরটিএর সহকারী পরিচালক শেখ মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট বাস মালিক ও পরিবহন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের চাপ আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। এদিকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারি দাবি করেছেন যাত্রীরা।



banner close
banner close