বুধবার

২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২ কার্তিক, ১৪৩৩

সর্বশেষ
জীবনে প্রশান্তি পেতে মুমিনের যেসব অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি জামায়াত সেক্রেটারিকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা সফল হবে না: এহসানুল মাহবুব জুবায়ের মুক্তিযোদ্ধা সনদের বিনিময়ে সাঈদীর বিরুদ্ধে স্বাক্ষী দিয়েছেন পশারী; দাবি তার ভাইয়ের সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিমানবন্দরসহ চার স্থানে হামলা; দাবি হুতিদের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানে নতুন বার্তা মোজতবা খামেনির কুষ্টিয়ায় জামায়াতের লংমার্চের সমাপনী সমাবেশের প্রস্তুতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন ত্রিদেশীয় সিরিজে পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে শ্রীলঙ্কা, বাদ ইংল্যান্ড বাড়িতে গুদাম দেখিয়ে সারের ডিলারশিপ পেলেন যুবলীগ নেতা নজরুল

চামড়াশিল্পে সংকট, বিপাকে মাদ্রাসা-এতিমখানা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২ জুন, ২০২৬ ১৪:১১

শেয়ার

চামড়াশিল্পে সংকট, বিপাকে মাদ্রাসা-এতিমখানা
ছবি বাংলা এডিশন

ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ ও বিক্রিকে কেন্দ্র করে দেশের ঐতিহ্যবাহী চামড়াশিল্পে আবারও গভীর সংকটের চিত্র দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ক্রেতা সংকট, অস্বাভাবিক মূল্যপতন এবং বাজারে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের কারণে কোটি কোটি টাকার চামড়া পানির দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে কওমি মাদ্রাসা ও এতিমখানাগুলো, যাদের গুরুত্বপূর্ণ আয়ের অন্যতম উৎস কোরবানির চামড়া।

ফেনীর ঐতিহাসিক পাঁচগাছিয়া বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় চামড়ার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সরকারি মূল্য নির্ধারণ থাকা সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে সেই দামে চামড়া বিক্রি হচ্ছে না। ফলে ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানগুলো চরম হতাশার মধ্যে রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, একসময় কোরবানির চামড়া বিক্রির অর্থ দিয়ে অনেক মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষার্থী ও এতিম শিশুদের খাদ্য, শিক্ষা এবং ভরণপোষণের ব্যয় নির্বাহ করা হতো। কিন্তু কয়েক বছর ধরে চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক সংকটে পড়েছে।

ক্রেতা সংকটের কারণে অনেক ব্যবসায়ী চামড়া লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে লবণের উচ্চমূল্যের কারণে সংরক্ষণ ব্যয়ও বেড়েছে কয়েকগুণ। এতে লোকসানের ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

চামড়া ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজারে মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের প্রভাব, পাশাপাশি অব্যবস্থাপনার কারণে তারা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ঋণ নিয়ে চামড়া সংগ্রহ করেছেন। নির্ধারিত সময়ে বিক্রি করতে না পারলে কিংবা প্রত্যাশিত মূল্য না পেলে তাদের ঋণ পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে পড়বে।

তালতলী দারুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি কামরুল হাসান বিন কাসেম বলেন, “২০১৬ সাল থেকে পরিকল্পিতভাবে দেশের চামড়াশিল্পকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। একসময় কওমি মাদ্রাসা ও এতিমখানাগুলো চামড়া বিক্রির অর্থ দিয়ে এতিম শিশুদের খাবার, লেখাপড়া ও ভরণপোষণের ব্যয় নির্বাহ করত। কিন্তু নানা কারণে এ খাত এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে।” তিনি শিল্প রক্ষায় সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।

সংশ্লিষ্টদের মতে, একসময় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম খাত ছিল দেশের চামড়াশিল্প। বর্তমানে শিল্পটি টিকে থাকার লড়াই করছে। দ্রুত নীতিগত সংস্কার, বাজার ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা না গেলে দেশের এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প আরও বড় সংকটে পড়তে পারে।

চামড়া খাত সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, সম্ভাবনাময় এ শিল্পে এখন আশার চেয়ে অনিশ্চয়তাই বেশি। তাই শিল্পটিকে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকার, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি হয়ে পড়েছে।