ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের চরআলগী গ্রামে রবিবার দুপুরে ফুচকা খাওয়াকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধ ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। এই সংঘর্ষে অন্তত ২০টি বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে একটি বিয়ের আয়োজন সম্পূর্ণ তছনছ হয়ে গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দিন বিকেলে ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ের মরিচারচর এলাকায় ঈদ উপলক্ষে মানুষের ব্যাপক সমাগম ঘটে। অস্থায়ী ফুচকার দোকানে কয়েকজন কিশোর অর্ডার দিলে ভুলবশত অন্য একটি দলকে আগে পরিবেশন করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রূপ নেয়।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সংঘর্ষের সময় মরিচারচর গ্রামের মো. ইব্রাহিম মিয়া দুই পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে রাতে তাকে উচাখিলা বাজারে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে ডেকে নিয়ে একদল লোক হামলা চালালে তিনি গুরুতর আহত হন। এই হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায় এবং রবিবার দুপুরে ইব্রাহিমের সমর্থক ও স্বজনরা চরআলগী গ্রামে গিয়ে প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে ব্যাপক হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
হামলাকারীরা বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের পাশাপাশি শতাধিক খড়ের গাদায় আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে বহু কৃষকের খড় ও গবাদিপশুর খাদ্য পুড়ে ছাই হয়ে যায়। হামলার সময় নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটে যান।
একই সময়ে চরআলগী গ্রামের হতদরিদ্র নাজিম উদ্দিনের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানেও হামলার ঘটনা ঘটে। বরযাত্রী আসার অপেক্ষায় থাকা পরিবারটির রান্না করা খাবার নষ্ট করা হয় এবং প্যান্ডেল, চেয়ার-টেবিলসহ আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। নাজিম উদ্দিনের ভাই আলাল উদ্দিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, কষ্টের টাকায় বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল, কিন্তু বর আসার আগেই সব শেষ হয়ে গেছে। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
খবর পেয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল আযম জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ গ্রহণ করা হচ্ছে এবং ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
আরও পড়ুন:








