কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা সীমান্তবর্তী নাফ নদীতে একটি সশস্ত্র ডাকাতদলের সঙ্গে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দুই রোহিঙ্গা জেলেকে বিজিবির হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে নাফ নদীতে মাছ ধরার সময় একটি ডিঙ্গি নৌকায় অবস্থানরত দুই রোহিঙ্গা জেলেকে লক্ষ্য করে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় থাকা একটি সশস্ত্র গ্রুপ ধাওয়া করে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে জেলেরা হ্নীলা ১ নম্বর স্লুইস গেটের অভ্যন্তরে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে সশস্ত্র ব্যক্তিরা তাদের ব্যবহৃত ডিঙ্গি নৌকাটি ছিনিয়ে নেয়।
উখিয়া ৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক জহিরুল ইসলাম শনিবার রাতে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, টেকনাফের হ্নীলা বিওপি থেকে প্রায় ১ দশমিক ৫ কিলোমিটার উত্তরে এবং শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৪০০ মিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে স্লুইসগেট-সংলগ্ন নাফ নদী এলাকায় সশস্ত্র গ্রুপটি মাছ ধরারত দুই রোহিঙ্গা জেলেকে লক্ষ্য করে আনুমানিক তিন রাউন্ড গুলি ছোড়ে। পরে তারা জেলেদের নৌকাটি ছিনতাই করে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে খরের দ্বীপের দিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
খবর পেয়ে হ্নীলা বিওপির একটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে। এ সময় সশস্ত্র গ্রুপটি ডুবারচর এলাকা অতিক্রম করার সময় বিজিবি সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে আনুমানিক পাঁচ থেকে ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এরপর সশস্ত্র ব্যক্তিরা মিয়ানমারের অভ্যন্তরের দিকে সরে যায় বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের বাসিন্দা ইমাম হোসেন (২৫) ও নুরুল আমিন (২৩) নামে দুই রোহিঙ্গা জেলেকে নিরাপত্তার স্বার্থে বিজিবির হেফাজতে নেওয়া হয়।
বিজিবি জানিয়েছে, বর্তমানে সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সম্ভাব্য যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:








