পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে চুয়াডাঙ্গার কার্পাসডাঙ্গায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত আটচালা ঘরে প্রতিদিন দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছে। সাহিত্য ও ইতিহাসপ্রেমীরা কবির স্মৃতি অনুসন্ধানে এই জনপদে ছুটে আসছেন।
চুয়াডাঙ্গা জেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কার্পাসডাঙ্গার মিশনপাড়ায় স্বদেশী আন্দোলনের নেতা হর্ষপ্রিয় বিশ্বাসের বাগানবাড়িতে সেই আটচালা খড়ের ঘরটি এখনও সংরক্ষিত রয়েছে। ১৯২৬ ও ১৯২৭ সালে পরপর দুইবার স্ত্রী প্রমিলা, দুই পুত্র সব্যসাচী ও বুলবুল এবং শাশুড়ি গিরিবালা দেবীকে নিয়ে কবি এখানে প্রায় দুই মাস অবস্থান করেছিলেন।
স্বদেশী আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে কার্পাসডাঙ্গায় এসেছিলেন কবি নজরুল। এখানে অবস্থানকালে তিনি গভীর রাত পর্যন্ত বিপ্লবীদের সঙ্গে বৈঠক করতেন। এই সময়ে স্থানীয় মানুষের জীবনচিত্র অবলম্বনে রচনা করেন উপন্যাস মৃত্যুক্ষুধা এবং লেখেন পদ্মগোখরো। ভৈরব নদীর তীরে বসে রচনা করেন বিখ্যাত গান কোন কূলে আজ ভিড়লো তরি, এ কোন সোনার গাঁয়।
ভৈরব নদের তীরে কবির স্মৃতিচিহ্নিত সানবাঁধানো সিঁড়ি, স্মৃতিফলক ও আটচালা ঘর দেখতে ঈদের ছুটিতে প্রতিদিন মানুষ আসছেন। দর্শনার্থীরা জানান, স্বদেশী আন্দোলনের প্রয়োজনে কবি এখানে এলেও সৃষ্টিশীল কাজ থামিয়ে রাখেননি।
চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের নজরুল গবেষক ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মুন্সি আবু সাঈফ জানান, জাতীয় কবির স্মৃতি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে কার্পাসডাঙ্গায় একটি স্থায়ী নজরুল চর্চাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। এর মাধ্যমে আগ্রহীরা কবির কবিতা, সংগীত, গজল, গদ্যরচনা, গল্প, উপন্যাস ও চলচ্চিত্র সাহিত্য সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবেন।
সম্প্রতি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় কার্পাসডাঙ্গায় তিন দিনব্যাপী একটি মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঈদুল আজহার আবহে কবির স্মৃতিবিজড়িত এই জনপদে এখন উৎসবের পরিবেশ বিরাজ করছে।
আরও পড়ুন:








