বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয়ের পর এ বিষয়টি আবার আলোচনায় উঠে এসেছে।
প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হক তার ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন যে, অল পাকিস্তান ক্রিকেট দলে পূর্ব পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়া হতো না। এর বিপরীতে গাজী সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ নামের একজন ব্যবহারকারী দীর্ঘ পোস্টে এ দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেন এবং আনিসুল হককে বাঙ্গু সুশীল ও প্রগতিশীল দলের অধিনায়ক হিসেবে উল্লেখ করেন। শাবানা নামের একটি ফেসবুক পেজও আনিসুল হকের বক্তব্যকে মিথ্যা বলে অভিহিত করে।
প্রদত্ত তথ্য অনুসারে, ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর ২৪ বছর পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান এক দেশ হিসেবে ছিল। এ সময়ে পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মিত হয়।
শেরেবাংলা নগরে জাতীয় সংসদ ভবনের নির্মাণ উদ্যোগ নেওয়া হয় ১৯৬১ সালে। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন চালু হয় ১৯৬৮ সালের ১ মে, যা উদ্বোধন করেন প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান ও গভর্নর মোনায়েম খান। চালনা বন্দর (বর্তমান মোংলা বন্দর) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫০ সালে। রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী নদীতে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মিত হয় ১৯৬২ সালে, যার ক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট।
আদমজী জুট মিলস প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫০-এর দশকে, যা তৎকালীন বিশ্বের বৃহত্তম পাটকল ছিল। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের নির্মাণ সম্পন্ন হয় ১৯৬৮ সালে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের মূল ভবন নির্মিত হয় ১৯৬৭ সালে এবং উদ্বোধন করেন আইয়ুব খান ১৯৬৮ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর।
শিক্ষা খাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫৩ সালে, বুয়েট ১৯৬২ সালে এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (পূর্বে জাহাঙ্গীরনগর মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়) ১৯৭০ সালের ২০ আগস্ট। চিকিৎসা খাতে পিজি হাসপাতাল (ইনস্টিটিউট অব পোস্ট গ্র্যাজুয়েট মেডিসিন অ্যান্ড রিসার্চ) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৫ সালে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ১৯৫৮ সালে, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ১৯৬১ সালে এবং সিলেট মেডিকেল কলেজ ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
গণমাধ্যমে পাকিস্তান টেলিভিশনের ঢাকা কেন্দ্র (বর্তমান বিটিভি) যাত্রা শুরু করে ১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর। ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়াম নির্মিত হয় ১৯৫৪ সালে।
সমালোচকরা উল্লেখ করেন যে, ১৯৭০ সালে পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলে রকিবুল হাসান খেলেছিলেন। পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক ছিলেন হাফিজউদ্দিন আহমেদ এবং ১৯৬২ সালের এশিয়ান গেমসে মোহাম্মদ আসাফউদ্দৌলা নেতৃত্ব দেন।
এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন মতামত প্রকাশিত হচ্ছে। কেউ কেউ পাকিস্তান আমলের উন্নয়নকে স্বীকার করলেও অন্যরা এ নিয়ে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করছেন। বিতর্কটি অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন:








